ওবায়দুলকে আর আ’লীগের সা. সম্পাদক রাখতে চান না শেখ হাসিনা?

২০ এবং ২১শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই চাঞ্চল্যের কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এতদিন ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের পুনরায় নির্বাচিত হবেন। সাধারণত একজন সাধারণ সম্পাদক হলে তাকে অন্তত দু’ টার্মের জন্য সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়।

সে হিসেবে এবারের কাউন্সিলে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে না সে বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার কিছু উদ্যোগ, তৎপরতা, পদক্ষেপের কারণে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল অনেকে মনে করছে, এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনেকগুলো চমক দেখাবেন এরমধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পদেও একটি চমক আসতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ থেকেই বলে আসছিলেন যে তিনি জাতির পিতার যে সাংগঠনিক নীতি এবং সাংগঠনিক আকাঙ্ক্ষা তা পূরণ করতে চান। জাতির পিতা দল পরিচালনার জন্য মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল যিনি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বা দল পরিচালনা করবেন মন্ত্রিত্ব বা সরকারের কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। এই নীতিটা অনুসরণ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলকে শক্তিশালী করা এবং যারা মন্ত্রী থাকবেন তাঁদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। কিন্তু ৭৫এর ১৫ আগস্টের পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসে। তখন বাস্তবতার আলোকেই জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। যারা প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তাঁরাই মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সরকার ও দল একাকার হয়ে গেছে। যারফলে সরকারের অনেক ব্যর্থতার ভাগীদার দল হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষমতায়। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে সরকার থেকে আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। গত দুটি কাউন্সিলের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি পর্যায়ক্রমে কিছু নেতা তৈরি করছেন যারা মন্ত্রী নন, এমপি নন। সার্ব’ক্ষণিকভাবে দলের দেখভাল করছেন। এবারের কাউন্সিলেও তিনি একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক চান এমন একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এটি যদি তিনি বাস্তবায়ন করেন তাহলে দলের হেভিওয়েট নেতারা কেউই সাধারণ সম্পাদকের জন্য আর নিজদেরকে জড়িত রাখতে পারবেন না।

যাদের নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের নিজেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী। অন্যদিকে ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের কৃষিমন্ত্রী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য। ওবায়দুল কাদের যখন অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তখন আলোচনায় তাঁর নাম এসেছিল। শেষ পর্যন্ত যদি ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক না থাকেন তবে অন্যকোনো মন্ত্রী যে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাবেন না তা মুটামুটি নিশ্চিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগে যারা এখন কোন পদে নেই, যারা এমপি, মন্ত্রী নন এরকম কাউকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে পুরস্কৃত করার চিন্তা ভাবনাটি অবাস্তব নয়। এরকম চিন্তাভাবনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন যে, শেখ হাসিনা এখন দলকে সরকার থেকে আলাদা করা এবং দলকে নিষ্কলুষ রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। সেই বিবেচনা থেকে দলে যদি একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক দেওয়া হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সেক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ বেশকিছু নেতার নাম আলোচনায় আসতে পারে। তবে যাকেই তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেন না কেন তাঁর ইমেজ হতে হবে ক্লিন এবং সার্বক্ষণিকভাবে দলের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দলকে গুছানোর জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করতে হবে। এরকম একজন বিকল্প কি পাবে আওয়ামী লীগ? যদি শেষপর্যন্ত এরকম বিকল্প না পাওয়া যায় তাহলে হয়তো ওবায়দুল কাদেরই দ্বিতীয়বারের মত দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন