কক্সবাজারে রাখাইনদের জলকেলি উৎসব পালন

দল বেঁধে গানে গানে নাচ আর ঘুরে বেড়ানো। সাথে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ। এটা রাখাইন বর্ষবরণ ও বিদায়ের অনুষ্ঠান সাংগ্রেং পোয়ে বা জলকেলি উৎসব। করোনা মহামারিতে গত বছর জলকেলি উৎসবের কোনো প্রকার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি।

কিন্তু এবার তাদের আর আটকানো যায়নি। ঘরোয়াভাবে ঘোষণাবিহীন তিন দিনের এই জলকেলি উৎসব সোমবার শেষদিনে অনেকটা জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে যেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

যদিও রাখাইনদের দাবি, ঘরোয়া পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তা পালন করা হয়েছে। ছোটদের মানানো যাইনি, তাই ছোট পরিসরে এ আয়োজন করা হয়েছে। তারা এই উৎসবে করোনামুক্ত বিশ্বের জন্য প্রার্থনাও জানিয়েছেন।

 

রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ ক্যা থিং অং জানান, প্রতিবছর মহা আয়োজনে জলকেলি উৎসব পালন করে আসছি। তবে করোনা মহামারিতে গত বছর জলকেলি উৎসবের কোনো প্রকার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় রীতি পালন করা হয়েছিল। এবছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় রীতি পালন ছাড়াও শেষ দিনে ছোট পরিসরে আয়োজন হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, দেশে স্বাধীনভাবে সবার নিজ নিজ ধর্মচর্চা করার স্বাধীনতা রয়েছে। প্রশাসন সে বিষয়ে তৎপর রয়েছে। রাখাইন ধর্মীয় নেতারা বিবেচনা করে করোনা মহামারিতে জনসমাগম এড়াতে তাদের বর্ষবরণ সীমিত করেছে। তারা ঘরোয়াভাবে সীমিত আকারে পালন করেছে।

রাখাইন পঞ্জি অনুসারে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৩। ঘরোয়াভাবে ঘোষণাবিহীন তিন দিনের জলকেলি উৎসবের শেষদিনে রাখাইন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের মানুষের ছিল বাধভাঙা উচ্ছ্বাস।

 

আরও পড়ুন