করোনা ঠেকাতে চ্যালেঞ্জ নিলো পুলিশ

মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে লাগাম টানা যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণের। ফলে প্রতিদিনই কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তার ওপর ঈদ সামনে রেখে ঢাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জে পুলিশ। কর্মস্থল ত্যাগ না করার সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নানা কৌশলে পুলিশের চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আগে আগামী ৪ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে গ্রামমুখী মানুষের স্রোত থামাতে না পারলে দেশজুড়ে সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পুলিশ বলছে, আগের তুলনায় রাজধানীর ৫টি প্রবেশপথে পুলিশের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই ঢাকা থেকে বের হতে ও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে ঘরমুখো মানুষের এ স্রোত থামাতেই হবে। এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী ৪ দিন। এ সময়ে মানুষের ঢল থামানো না গেলে সংক্রমণ মারাত্মক অবস্থায় যেতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী প্রবাসী বাংলাকে বলেন, ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষদের গ্রামে যাওয়া ঠেকাতে হবে।

কারণ যারা গ্রামে ফিরছেন এদের বেশিরভাগই সংক্রমণ বেশি থাকা এলাকা থেকে যাচ্ছেন। ফলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ঈদের দিনসহ আগামী ৪ দিন কঠোরভাবে দেখতে হবে, কেউ যাতে ঢাকা ও তার আশপাশ ছাড়তে না পারে। নানা দিক থেকে আগামী ৪ দিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের প্রথম ঢল দেখা যায় সোমবার। সেদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় যানজটের সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে, মাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফেরিতে হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে দেখা যায়। কড়াকড়ির মধ্যেই মানুষ হেঁটে, প্রাইভেট ও ‘রেন্ট-এ-কার’সহ ছোট ছোট গাড়িতে ঢাকার সাইনবোর্ড, বাবুবাজার, কল্যাণপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং, টঙ্গী, আশুলিয়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট।

সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, আবদুল্লাহপুর, ৩০০ ফুট সড়ক, গাবতলী ও বাবুবাজার-সদরঘাট এলাকায় পুলিশের ব্যাপক নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে সড়কে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন কিছুটা কম দেখা গেছে। এ ব্যাপারে আইজিপি বেনজীর আহমেদেরও কড়া নির্দেশনা রয়েছে।

কথা হয় র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেমের সঙ্গে। তিনি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ সময়ে কেউ ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না। হবে না নতুন প্রবেশও। এজন্য আমাদের নিয়মিত ‘প্যাট্রোল’ অব্যাহত রয়েছে। প্রবশপথে আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। ঢাকার ভিতরেও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি আমরা। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ অবস্থা চলমান থাকবে।

এদিকে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পাস দেয়ার চিন্তা করছে পুলিশ। এ ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়া কেউ চলাচল করতে পারবেন না। অনলাইনে আবেদন করে নিতে হবে এ পাস। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, এটি আমরা এখনও পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর করতে কাজ চলছে। প্রস্তুত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পাস চালু হবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজিস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে এখন অবশ্যই ‘হার্ডলাইনে’ যেতে হবে। এখন শতভাগ লকডাউন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে কারফিউ দিতে হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া ডকুমেন্ট ব্যতীত যাতে কেউ বের হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শহরের এসব মানুষ গ্রামে ফিরলে সংক্রমণ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তাই করোনায় আক্রান্তের হার বিবেচনায় ‘রেড জোন’ এলাকায় চালাতে হবে বিশেষ নজরদারি।

আরও পড়ুন