কাউন্সিল নিয়ে খালেদা-তারেক দ্বন্দ্বে বিভক্ত বিএনপি!

বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল অধিবেশনের সি’দ্ধান্ত নিলেও লন্ডন থেকে সবুজ সংকেত না আসায় কাউন্সিলের কোন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপি তৃণমূলের কাছ থেকে নেতৃত্বের পরিবর্তন করে নতুন নেতৃত্ব এবং কাউন্সিল অধিবেশনের একটা তা’গাদা দেওয়া হয়েছে। কা’রান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়াও কারা’গার থেকে দ্রুত কাউন্সিল করে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের জন্য নি’র্দেশ দিয়েছিলেন। এনিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকের অনাগ্রহের কারণে কাউন্সিল থমকে গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, কাউন্সিল অধিবেশন হলেই তারেকের একক কর্তৃত্ব খর্ব হতে পারে। তৃণমূলের ক্ষো’ভ প্রকাশ হতে পারে। বিএনপিতে তারেকের ব’দলে খালেদার কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এ কারণেই কাউন্সিল থেকে তারেক জিয়া দূরে সরে এসেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, দুটি দুর্নীতির মাম’লায় দন্ডিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং অন্যদের মাধ্যমে দলের নিয়মিত বার্তা পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে তারেক জিয়া লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনার জন্য নানা রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন যে, খালেদা জিয়ার নির্দেশনা এবং তারেকের নির্দেশনার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ।

দুইজনের কৌশল সম্পূর্ণ দুই মেরুতে। যার ফলে দলের নেতারা বিব্রত এবং এ কারণে দলের নেতারা কোনদিকে যাবেন তা নিয়ে একটা বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, গত সপ্তাহে কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়া আ’ন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তার কারান্তরীণ (বেগম খালেদা জিয়া) ইস্যুকে ঘিরে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ধাপে ধাপে আ’ন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে বেগম খালেদা জিয়ার ওই বার্তায় এটা স্পষ্ট করে বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ যেন সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তার প্রস্ততি নিতে হবে।

এই আলোকেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তারেক জিয়া লন্ডন থেকে এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, এখন আন্দোলন করার সময় নয়। বরং ঐক্যফ্রন্টকে ঘিরে একটি শক্তি’শালি মোর্চা গঠন করার ব্যাপারে তিনি নেতাকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে রংপুর উপনির্বাচনসহ সমস্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক জিয়ার এই নির্দেশনা গৃহীত হয় এবং দল আসন্ন সাতটি উপজেলা নির্বাচন, রংপুর উপনির্বাচনসহ ঢাকা তিন সিটি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

এই বার্তা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছানো মাত্র বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এই সমস্ত অর্থহীন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার কি মানে তা তিনি জিজ্ঞেস করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যে, যখন আমরা এই সরকারকে অ’বৈধ বলছি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন মানছি না, তখন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে তা তার বো’ধগম্য নয়।

মা-ছেলের এই দ্ব’ন্দ্বে এখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এখন মোটামুটি ভিরমি খাওয়ার মতো অবস্থা। তারা বুঝতে পারছেন না তারা কোনদিকে যাবেন। সম্প্রতি গত বুধবার বেগম খালেদা জিয়া অনতিবিলম্বে দলের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা এবং জেলা পর্যায়গুলোতে কাউন্সিল করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকবেন, যারা জেলা নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না-সহ বিভিন্ন নি’র্দেশনা পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই নি’র্দেশনা পাওয়ার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তারেক জিয়া আপাতত কাউন্সিলের কোন দিন তারিখ না দেওয়ার নি’র্দেশনা দিয়েছেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, নির্বাচনের পর থেকে তারেক জিয়া তৃণমূলের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে স্কাইপিতে যোগাযোগ করছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। কিন্তু এসব বৈঠকে তারেক জিয়ার নে’তৃত্ব এবং বিচ’ক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারেক জিয়ার একের পর এক বিভ্রা’ন্তিকর সি’দ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছে।

দুই বছর আগেও তারেক জিয়ার যে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বিএনপিতে ছিল তা আলগা হয়ে গেছে। বরং বিএনপির তৃণমূলের নেতৃত্ব মনে করছে যে, বিএনপির একমাত্র নেতা তারেক জিয়া নয়। এই অবস্থায় বিএনপির তৃণমূলের কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার প্রেক্ষিতে তারেক জিয়া এখনি কাউন্সিল করার পক্ষপাতি নয়। ফলে তারেক জিয়া-খালেদা জিয়ার দ্বন্দ্ব এখন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে এক মহা বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।

You might also like