কাশ্মীরি মেয়ে খোঁজায় শীর্ষে বাঙালিরা!

গত কয়েকদিনে ভারতে গুগল সার্চে সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে কাশ্মীর। আরও স্পষ্ট করে বললে কাশ্মীরি মেয়ে। ভারতে গুগল সার্চের সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ শব্দটি। এরপরই ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ হয়েছে।

ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনেক নেতার মুখে কাশ্মীরি মেয়ে বিয়ে করার কথা শোনা গেছে।

এদিকে গুগলে কাশ্মীরি মেয়ে খুঁজতে শুরু করেছে অনেকে। আর এই তালিকায় শীর্ষে আছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাই। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

গণমাধ্যমটিতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৭০ ধারা বাতিলের পরই কাশ্মীর সম্পর্কে ভারতীয়দের ধারণা বদলাচ্ছে। গুগল কাশ্মীরি মেয়ে খোঁজার ধারাও বদলাচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গুগলে ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ লিখে সার্চ দেয়ার ধরন বদলাচ্ছে। এতদিন কাশ্মীরি মেয়ে খোঁজার তালিকায় শীর্ষে ছিল দিল্লি। তবে রাজধানীকে টপকে গেছে পশ্চিমবঙ্গ।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই তিন শব্দ লিখে গুগলে সার্চ করায় পশ্চিমবঙ্গের পর দিল্লি দ্বিতীয়, তেলেঙ্গানা তৃতীয়, কর্ণাটক চতুর্থ এবং মহারাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে আছে।

অন্যদিকে ‘কাশ্মীরি গার্লস’ লিখে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেছে কেরালা। এই দুই শব্দ লিখে গুগলে সার্চ করার তালিকায় ঝাড়খণ্ড দ্বিতীয় এবং হিমাচল প্রদেশ তৃতীয় স্থানে আছে।

ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরপরই গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল পিক’ লিখে সার্চ করার মাত্র বেড়ে যায়। এছাড়া কাশ্মীর ও লাদাখে জমি কেনার বিষয় জানতে চেয়েও গুগলে সার্চ করেছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার উদযাপন অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের বিজেপি এমপি বলেন, ‘এবার আমাদের দলের কর্মীরা সুন্দরী কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করতে পারবেন। ফর্সা টুকটুকে কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ে করতে পারবেন। আর কোনও বাধা রইল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মীরা খুবই উত্তেজিত এবং যারা অবিবাহিত তারা তো এবার ওখানে বিয়েও করতে পারবে। এখন আর কোনও সমস্যা নেই। এর আগে ওখানে নারীদের উপর অত্যাচার হতো। যদি ওখানকার কোনও মেয়ে উত্তরপ্রদেশের কোনও ছেলেকে বিয়ে করতো তাহলে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যেত। ভারত ও কাশ্মীরের নাগরিকত্ব আলাদা ছিল। আর এখানকার মুসলিম পুরুষদেরও আনন্দ করা উচিত। ওখানে বিয়ে করুন। ফর্সা কাশ্মীরী মেয়েদের। আনন্দ করা উচিত। সবার আনন্দ করা উচিত, সে হিন্দু হোক কি মুসলিম। এ নিয়ে সারা দেশের আনন্দ করা উচিত।’

এ ব্যাপারে ওই বিধায়ককে প্রশ্ন করা হলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, ‘এখন কোনও সমস্যা ছাড়াই যে কেউ কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করতে পারবেন। এটাই সত্যি। এটা কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতা। এখন কাশ্মীর স্বাধীনতা পেয়েছে।’

ওই বিধায়ক আরও বলেছেন, ‘মোদিজি আপনি আমাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। সর্বত্র মানুষ ঢাক বাজিয়ে আনন্দ করছে। সে লাদাখ হোক কিংবা লেহ। গতকাল আমি একজনকে ফোন করে জানতে চাই ওখানে কোনও বাড়ি আছে কিনা।’

বিধায়ক বলেন, ‘আমি কাশ্মীরে বাড়ি কিনতে চাই। ওখানে সবকিছুই সুন্দর, ওই জায়গাটা, ওখানকার পুরুষ এবং নারীরা। সব কিছু।’

আরও পড়ুন