কাশ্মীরের দিকে কড়া নজর ট্রাম্পের

৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল হওয়ার পর কাশ্মীর ইস্যুতে এবার মুখ খুলল আমেরিকা৷ সাফ জানাল, বিগত ২৪ ঘণ্টায় জম্মু-কাশ্মীরে যা ঘটেছে, সমস্ত বিষয়ে নজরে রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ পাশাপাশি, এই ইস্যুতে সমস্ত পক্ষকে শান্তি বজায় রাখতে বলার আরজি জানায় ওয়াশিংটন, রাষ্ট্রসংঘ ও অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশন৷

 

সোমবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র মর্গ্যান ওর্টাগা৷ তিনি জানান, ‘আমরা জম্মু-কাশ্মীরের প্রতিটি ঘটনার উপর নজর রাখছি। ভারত এই রাজ্য নিয়ে যে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সব কিছু লিখে রাখছি আমরা। যদিও ভারতের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, গোটা বিষয়টাই অভ্যন্তরীণ৷ তাও আমরা ওই রাজ্যের প্রত্যেক মানুষের অধিকার নিয়ে চিন্তিত। আমরাও সব পক্ষের কাছে আরজি জানাচ্ছি, একসঙ্গে শান্তি বজায় রেখে সব সমস্যা মেটানোর। এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার৷” কাশ্মীর ইস্যুতে আমেরিকার এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক চাল হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, আগেই এই ইস্যুতে দু’বার মধ্যস্থতার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ এবং ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ তবে বারবারই এই আরজি খারিজ করেছে নয়াদিল্লি৷ তাই এদিন আবারও কাশ্মীর ইস্যুতে মুখ খুলে আসলে ভারতকে চাপে রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন৷ এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন।

উল্লেখ্য, সোমবারই জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে কেন্দ্র৷ পাশাপাশি রাজ্যসভায় জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পুনর্গঠন বিলও পাশ করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যাতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরকে দু’ভাগ করা হবে। একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে লাদাখ, অন্যটি জম্মু-কাশ্মীর। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পরই শোরগোল পড়েছে জাতীয় তথা বিশ্ব রাজনীতির আঙিনায়৷ একদিকে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা৷ অন্যদিকে ঘটনার বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান৷ নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপের পরই পাক বিদেশমন্ত্রী মেহবুব কুরেশি জানান, ‘‘৩৫এ ধারার অবলুপ্তির মাধ্যমে ভারত তথাকথিত গণতন্ত্রের আসল রূপ বিশ্বের সামনে প্রকাশ করল৷ কাশ্মীরের নেতৃত্ব ভারতের এই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারবে না৷ এই সিদ্ধান্ত কাশ্মীর সমস্যাকে পুনরুজ্জীবিত করবে৷’’ এখানেই শেষ নয়, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে রুখে দাঁড়াবে, সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি৷
আরও পড়ুন