কাশ্মীর ইস্যু: জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অভিযোগ

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলসহ ওই অঞ্চলে সেনা বাড়ানো ও কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে গ্রেফতার করা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান।

ভারতের এ পদক্ষেপকে অবৈধ বলেও ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লিখা চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ জানিয়েছেন।

সেখানে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিবকে লিখা চিঠিতে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ।

ওই চিঠিতে তিনি বলেন, কাশ্মীরি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে ভারত সরকার উপত্যকাটির নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় বাহিনী কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিমের সদস্যদের টার্গেট করে গুলি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার জাতিসংঘের নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।

জানা গেছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠিন বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানায়।

এ সময় কাশ্মীরে যে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকার জন্য রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ভারতকে সতর্ক করে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের বাড়াবাড়ির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পাকিস্তান কঠিন পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি করা হয়।

উল্লেখ্য, বদলে গেল ৬৯ বছরের ইতিহাস। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করায় ‘বিশেষ মর্যাদা’ হারিয়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। উপত্যকায় থাকবে না আলাদা সংবিধান ও পতাকা।

বর্তমানে কাশ্মীরের শ্রীনগর আর জম্মু অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সব স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল, টেলিফোন আর ইন্টারনেট সেবা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। নতুন করে ৮ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে কাশ্মীরে।

আরও পড়ুন