কিশোরগঞ্জে ৬৫ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি ২১ জন

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সুলতানা রাজিয়া।

 

জুলাই মাসের প্রথম থেকে শনিবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এখনও ভর্তি আছেন ২১ জন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে এ পর্যন্ত মোট ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। জেলা সদরসহ দুটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন। হাসপাতালে এখনও ভর্তি আছেন ২১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও মহিলা ২ জন। প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মশারী ছাড়াই একই বিছানায় ২ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার সিভিল সার্জন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা সদরের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, এখানে অন্য রোগীর সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। ফলে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

বেশির ভাগ রোগী জানিয়েছেন তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এ জ্বর জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা। অনেকে সেখানে ভর্তি হয়েও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন বাড়িতে।

হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। তবে এক বিছানায় ২ জন করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কারোই মশারী নেই।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. রমজান মাহমুদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “জুলাইয়ের প্রথম থেকে শনিবার পর্যন্ত হাসপাতলে ভর্তি আছেন ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী। চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ৩২ জন। তাদের মধ্যে ৫ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “স্থান সংকুলান না হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীর সঙ্গে রাখা হচ্ছে। অচিরেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে।”

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৭ জন। এছাড়া জেলার বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি আছেন আরও ১৩ জন। মশারী ছাড়া অন্য রোগীর সঙ্গে একই বিছানায় ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন