কে শ্রেষ্ঠ, নারী না পুরুষ?

আসলে নারী আর পুরুষ নিয়ে এই সমাজের বিতর্কটা একটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু না। এখানে দুজনই যার যার অবস্থানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। নারীর শ্রেষ্ঠত্বের অবস্থানে পুরুষের অবস্থান শূন্যের কোঠায় আবার পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের স্থানে নারীর অবস্থান শূন্যের কোঠায়। তাহলে দাঁড়ালো নারী আর পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। যে মানুষের ছোট বেলা থেকে বাবা নেই বা বাবার আদর থেকে যে বঞ্চিত, সে মানুষটিকে তার মা যতোই আদর, ভালোবাসা, শাসন দিয়ে রাখুক না কেন সেই কেবল জানে তার বাবার ভালোবাসা, আদর বা শাসনের শুণ্যতা কতটুকু নিয়ে বেঁচে থাকা। সে তার জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে বাবার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে থাকে যখন দেখে অন্যদের বাবারা তার সন্তানদের ভালোবাসে। এখানে একজন নারী (মা) সে যতোই ভালোবাসুক না কেনো বাবার স্থানে তার অবস্থান শূন্যের কোঠায়।

ঠিক অনুরূপ, মায়ের ভালোবাসা অন্য কেউ দিয়ে পূরণ করতে পারবে না। অর্থৎ যার মা নেই তার বাবা যদি হাজারো স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখুক না কেনো, সে পারবে না তার সন্তনেকে মায়ের মতো করে ভালোবাসতে বা একজন নারীর (মায়ের) ভালোবাসার শূন্য অবস্থানে পূর্ণতা এনে দিতে।

আবার একজন নারীর ভালোবাসা ছাড়া একজন পুরুষের জীবন যে কতোটা পানসে (ফিকে) তা কেবল সেই বুঝবে যে পুরুষ স্ত্রীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। ঠিক অনুরুপ একজন নারীও কোন এক বাবার চোখের রাজ কন্যা হওয়া সত্বেও, কোন এক মায়ের, কোন এক ভাইয়ের বা কোন এক বোনের ভালোবাসায় সিক্ত থেকেও স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যকুল থাকে, তা কেবল সে নারীই বুঝে যার সব কিছু থেকেও স্বামী নেই বা স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত।

পৃথিবীতে সবকিছু থাকা সত্বেও এদের হৃদয়টা যে কতোটা শূণ্য তা কেবল রাতের অন্ধকারে এদের মাথার বালিশই জানে, দিনের আলোয় ব্যস্ততার ভারে যতোই হাসিখুশি আর সুখী থাকার চেষ্টা করা হোক না কেন, সবকিছুই অভিনয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

তাহলে আমরা শ্রেষ্ঠ বলবো কাকে? এসমাজে শিক্ষিত মানুষগুলো মূর্খের মতো নারী-পুরুয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে যে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মেতেছে তা দেখে বড্ড হাসি পায়। আজ নারী-পুরুষের এমন শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতার মনোভাবের ফলেই ভেঙ্গে যাচ্ছে একে অন্যের প্রতি বন্ধন, ভালোবাসা আর সহানুভূতি। ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে পরিবার আর জন্ম নিচ্ছে হাজারো হাজারো শুণ্য বুকের হৃদয়।

-মোহাম্মদ হাফিজ
সাংবাদিক ও লেখক

আরও পড়ুন