ক্লাবগুলোর দায় নেবে না বাফুফে

ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব দিয়েই অভিযান শুরু করেছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক এই অযুহাতে ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার লিগে উঠেও দেশের সর্বোচ্চ ঘরোয়া লিগে অংশ নেয়নি ক্লাবটি। অথচ র‌্যাবের অভিযানে এক রাতেই ক্লাবটির ক্যাসিনো থেকে পাওয়া গেলো বিপুল পরিমাণ অর্থ। হাউজির অভিযোগ আছে প্রিমিয়ার লিগের দল আরামবাগ, মোহামেডান আর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। দিলকুশা, আজাদ স্পোর্টিং-ও আছে এই তালিকায়। এতদিন যেন ছিলো ওপেন সিক্রেট।

আজ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) মোহামেডান, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ও ভিক্টোরিয়া ক্লাবে দুপুরে অভিযান চালাই পুলিশ। এসব ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পাওয়া গেছে। জুয়া খেলার সরঞ্জামও মিলেছে। এছাড়া শিশা, বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেছে। কয়েকটি ক্লাবে টাকা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্লাবগুলো থেকে ব্যাপক পরিমাণ জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেন, ক্লাবগুলোর মূল কাজ খেলোয়াড় তৈরি, সঙ্গে পাইপলাইনকে আরো সমৃদ্ধ করা। অথচ তার পরিবর্তে অধিকাংশ ক্লাব কর্তারা, ক্লাবের মধ্যেই খুলেছেন জুয়ার জমজমাট ব্যবসা। যার প্রভাব পড়ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গণে, বিশেষ করে ফুটবলে। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায়ত্ব প্রকাশ ছাড়া কিছুই যেন করার নেই ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বাফুফের। আর যদি এমনটা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই খেলা থেকে পুরোপুরিভাবেই মুখ ফিরিয়ে নেবে সবাই।

তিনি আরও বলেন, এটি খুব দুঃখজনক। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই যে ক্লাবের অর্থের জোগান কোনো ক্যাসিনো থেকে আসবে বা কোনো জুয়ার আসর থেকে আসবে। ক্যাসিনো পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। কিন্তু সেটা ক্লাবপাড়ায় হতে হবে কেন? ক্লাব একটি পবিত্র জায়গা। যে বাবা-মায়েরা চিন্তা করেন যে আমার ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলা করুক, এরপরে কি তারা আর সেটা চাইবেন? তারা তো ভাববেন যে  এখানে গেলে আমার ছেলে এই ধরনের পরিবেশে বড় হবে, তার চেয়ে খেলাধূলার দরকার নাই।

বাফুফে-র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বলেন, এক্ষেত্রে আমি মনে করি বাফুফের কোনো দায় দায়িত্ব নেই। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদে আছে, কমিটি আছে। তাদের মাধ্যমে প্রতিটি ক্লাব তাদের নিয়মেই পরিচালিত হয়। কেউ যদি কোনো অন্যায় করে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে।

তবে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ ব্যাপারে ফেডারেশনকে হতে হবে আরো কঠোর। ক্যাসিনো ব্যবসার প্রমাণ পাওয়া গেলে ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে ঘরোয়া ফুটবল থেকে। এতে যদি কিছুটা হলেও এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় দেশের ক্রীড়াঙ্গণ।

আরও পড়ুন