খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে তালিকায় আরও দুই দেশ

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি মিললে বিদেশে নেয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও দুই থেকে তিনদিন সময় লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন-লন্ডনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও দুটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা। সরকারের অনুমোদনের পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে চেয়ে বুধবার (৫ মে) রাত আটটায় আবেদন করে তার পরিবার। এরপর কেটে গেছে ৪২ ঘণ্টা। এখনো সরকারের গ্রিন সিগন্যাল মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটায় আবেদনের কপি হাতে পাওয়ার পর আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে তিনি মতামত দিবেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিবেচনায় শুক্রবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত।

বিএনপিও তাকিয়ে সরকারের দিকে। আবেদনে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করলেও সে দেশকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তার পরিবার। এছাড়া সৌদি আরব, দুবাইয়ের কথাও শোনা যাচ্ছে। সেইসব দেশের দূতাবাস, হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন তারা। বেগম জিয়ার নবায়নকৃত পাসপোর্ট ও সরকারের অনুমোদন পেলেই এ বিষয়ে আরও তৎপর হবে দল। যদিও অনুমোদনের পরও বিএনপি নেত্রীকে বিদেশ নিতে আরও দুদিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার অবস্থা এখনও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক। তিনি জানান, অক্সিজেন, এন্টিবায়োটিক ও ইনসুলিন দেয়া হচ্ছে বিএনপি নেত্রীকে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তার বাসভবন ফিরোজার আরও আটজন ব্যক্তিগত স্টাফও আক্রান্ত হন। এরপর ২৪ এপ্রিল (শনিবার) তার দ্বিতীয় করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার কথা জানান তার চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

২৭ এপ্রিল আবার সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর গত সোমবার (৩ মে) শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

 

আরও পড়ুন