খুলনা শিপইয়ার্ডে পাঁচটি প্যাট্রল ক্র্যাফটের কিল লেয়িং

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিতব্য পাঁচটি প্যাট্রল ক্র্যাফটের কিল লেয়িং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্যাট্রল ক্র্যাফ্টগুলো ৫১.৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৫০ মিটার প্রস্থের যা ঘণ্টায় ২১ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) খুলনা শিপইয়ার্ডে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্মাণ শেষে এই যুদ্ধজাহাজগুলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নৌবহরে যুক্ত হওয়ার পর এগুলো উপকূলীয় এলাকায় টহল প্রদান, চোরাচালানবিরোধী অভিযান, দুর্ঘটনাপরবর্তী উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগপরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণতৎপরতা পরিচালনা, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধসহ নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করবে।

পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নীতি “ব্লু ইকোনমি” বাস্তবায়নে সমুদ্রের মূল্যবান সম্পদ আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে জাহাজনির্মাণ শিল্পের পথিকৃৎ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ৬২ বছর আগে যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রুগ্ন এই প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর দক্ষব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের কুশলতায় বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বিগত দিনে এ ইয়ার্ড যুদ্ধজাহাজসহ সর্বসাকুল্যে ৭৩১টি জাহাজ নির্মাণ ও ২৩৩১টি জাহাজ মেরামতের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। ইয়ার্ডটি ইতোমধ্যেই দেশীয় প্রযুক্তিতে পাঁচটি প্যাট্রল ক্র্যাফ্ট এবং দুইটি লার্জ প্যাট্রল ক্র্যাফ্ট নির্মাণ করে নৌবাহিনীকে সফলভাবে হস্তান্তর করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর জন্য আরও পাঁচটি প্যাট্রল ক্র্যাফ্টের কিল লেয়িং অনুষ্ঠান আজ সম্পন্ন হলো।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সহকারী নৌপ্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মঈনুল হক, মোংলা পোর্টের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মোজাম্মেল হক, খুলনা নৌ-অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, খুলনা ও যশোর এলাকার উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ খুলনা শিপইয়ার্ডের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন