গলাকেটে হত্যার পর ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা

রাজশাহীতে প্রবাসী এক নারীর স্বামীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে চার বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার শিকার যুবক কাঞ্চন শিকদার (২২) বাগেরহাট থেকে রাজশাহীতে এনে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ হত্যা প্রচেষ্টার মূলপরিকল্পনাকারি প্রবাসী ওই নারী বলে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে দাবি করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগেরহাটের মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৪), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার হাসেম আলীর ছেলে সজীব (১৯), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ গ্রামের পারভেজ ওরফে মোশারফের ছেলে কাওসার (২০) ও পটুয়াখালির গলাচিপা থানার নলুয়াবাগি গ্রামের মজিব মৃধার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৯)। এদের মধ্যে রাসেল শেখ নিজেকে কাঞ্চনের প্রবাসী স্ত্রী তানিয়ার প্রেমিক বলে দাবি করেছেন।

এদিকে ঘটনার শিকার কাঞ্চন শিকদারের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামে। তিনি জালাল শিকদারের ছেলে। তার প্রবাসী স্ত্রীর বাবার বাড়িও একই গ্রামে। পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, শনিবার রাত ১০ থেকে ১২টার মধ্যে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি ছুরি ও চেতনানাশক পাউডার উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রবাসে বসে ওই নারী যে তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার বেশকিছু আলমতও পাওয়া গেছে গ্রেপ্তার রাসেলের মোবাইল ও ম্যাসেঞ্জারে।

পুলিশ সুপার বলেন, দুইদিন আগে পাসপোর্ট করে দেয়ার কথা বলে কাঞ্চনকে রাজশাহীতে আনা হয়। তারা শিরোইল এলাকায় সিটি আবাসিক হোটেলে উঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঞ্চনকে হত্যার জন্য তারা শনিবার রাত ৮টার দিকে চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি স্টেশনের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা কাঞ্চনকে অজ্ঞান করার চেষ্টা করলে সে চিৎকার দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন গিয়ে মিরাজ ও কাওসারকে ধরে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাসেল ও তার সহযোগী সজীবকে গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে পুলিশ। রাত ১২টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশন এলাকা থেকে রাসেল ও সজীবকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার বলেন, কাঞ্চনকে গলাকেটে হত্যার পর ছেলেধরা বলে গুজব বলে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পাসপোর্ট করানোর কথা বলে তানিয়া তার স্বামীকে রাসেলের সঙ্গে রাজশাহী পাঠায়। তবে এ হত্যা চেষ্টার সাথে জড়িতদের কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি। শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্কের জেরে খরচ বাবদ মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে তারা এ হত্যাকাণ্ডের মিশনে এসেছিল।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, সাত বছর আগে কাঞ্চনের সঙ্গে বিয়ে হয় তানিয়ার। সে বর্তমানে সৌদি আরবে বিউটি পার্লারে কাজ করে। দেড় বছর পরে তার দেশে আশার কথা রয়েছে। তবে দেড় বছর আগেই তানিয়ার সৌদি আরব যাওয়ার কাগজপত্র ঠিকঠাক করে দেয়ার সহযোগিতা করেছিল রাসেল শেখ। ওই সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দেশে ফিরে প্রেমিককে বিয়ের উদ্দেশ্যে আগেই পথ পরিষ্কার করতে রাসেল ও তানিয়া কাঞ্চনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

রবিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী কাঞ্চন শিকদার স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে চারঘাটের পথে ছিলেন। তারা আসলে এ ঘটনায় চারঘাট থানায় হত্যা প্রচেষ্টার মামলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন