গোল্ডেন মনিরের ২৩ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে

স্বর্ণ চোরাচালানি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংক বলে খ্যাত ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ডে (ইউবিএস) ২৩ কোটি টাকা জমা রাখার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সুইজারল্যান্ডে গোল্ডেন মনির হোটেল ব্যবসায় শত কোটি টাকা লগ্নি করেছেন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা এলাকার হুন্ডি ব্যবসায়ী শামসুল হক ও আরিফুর রহমানের মাধ্যমে তিনি ২৩ কোটি টাকা সুইজারল্যান্ডের ইউবিএস ব্যাংকে জমা করেন। জুরিখে রফিক উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হোটেল ব্যবসায় গোল্ডেন মনির শত কোটি টাকা লগ্নি করেছেন বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে গোন্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে র‌্যাবের করা ৩ টি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের কাছ থেকে ঢাকা মহানগর অপরাধ তথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবিতে) হস্তান্তর করা হয়েছে। ৩ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড হেফাজতে থাকা গোল্ডেন মনিরকে ডিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ডেন মনিরের অপকর্ম, সহযোগীদের বিষয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চমকপ্রদ নানা তথ্য।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, মঙ্গলবার বিকালে মামলা তিনটি আমরা গ্রহণ করেছি। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় ২২ নভেম্বর রবিবার সকালে গ্রেফতার দেখিয়ে মনিরকে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। এই তিন মামলায় মনিরের ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন চলাকালীন সেই মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গোল্ডেন মনিরের নামে পাওয়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে রাজধানীর বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রজেক্টের ২.৫০ কাঠা জমিতে ৬ তলা ভবন, উত্তরার জনপথ এলাকায় ৫ কাঠা জমি (প্লট নং ২৩ ও ২৪), উত্তরার জমজম টাওয়ারে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বারিধারার জে ব্লকের প্রগতি সরণিতে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডার বারিধারা জে ব্লকে সাড়ে ৪ কাঠা জমি, একই ব্লকের ১৩ নম্বর রোডে ৪ কাঠা জমি, ১ নম্বর রোডে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডা রাজউক এলাকায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠা জমি (১০ নম্বর প্লট), ওই এলাকায় ৪২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, ৩২ নম্বর ব্লকে আড়াই কাঠা জমি, বাড্ডার রাজউক এলাকার ১১ নম্বর রোডে ৪৪ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, একই এলাকায় ৩৭ নম্বর প্লট ও ৪১ নম্বর প্লটে ৫ কাঠা জমি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, এর পাশেই পৌনে ৩ কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট ও পৌনে ৩ কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে পৌনে ৪ কাঠা প্লট, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, উত্তরায় হরিরামপুরে ৩৬ শতাংশ জমি, একই এলাকায় ৫ কাঠার প্লট, উত্তরা এলাকায় নলভোগ মৌজায় ৪ কাঠার প্লট, পূর্বাচল প্রকল্পে ৫ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার প্লট, বাড্ডায় রাজউক এলাকায় ১০ নম্বর সড়কে আড়াই কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে মগর চোর মৌজায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমিসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে আত্মীয়-স্বজনের নামে শত শত কোটি টাকার জমি।

ব্যাংক হিসাব জব্দ :

গোল্ডেন মনিরের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল-সিআইসি। একই সঙ্গে তার স্ত্রী, পুত্র ও মায়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবও জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আলাদা নির্দেশনায় আলোচ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গত সাত বছরের সব ধরনের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। আগামী বুধবারের মধ্যে এই তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন