চকরিয়ায় প্রবীণ আ.লীগ নেতাকে বিবস্ত্র করে পেটালেন যুবলীগ নেতা!

বৃদ্ধ নুরুল আলম। বয়স ৭০। কয়েকজন যুবক ওই বৃদ্ধ নুরুল আলমকে কিল-ঘুঁষি মারছে, পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলছে, সাথে সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করছে। আর কয়েকজন যুবক তা মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করছে। তবে কেউ এগিয়ে আসেনি ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে। এভাবেই অপদস্থ করা হয়েছে বয়োবৃদ্ধ নুরুল আলমকে।

বৃদ্ধকে এই অমানবিক নির্যাতনের ভিডিওটি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ার তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনাটির পুরো নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের ৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি আনছুর আলম। এঘটনার পর গত ৩১ মে রাতে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানা একটি এজাহার দায়ের করেন।

এতে আসামি করা হয়েছে- ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে বদিউল আলম (৫৫), আনছুর আলম (৩৫), শাহ আলম (৫২), শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন (৪৮), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেল (২৮)।

এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন আমার বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পড়নের লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে। পাশাপাশি মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগালও করে। কয়েকজন যুবক এসব ঘটনার মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করে। পরে খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান।

মামলার বাদী আশরাফ হোসাইন এজাহারে আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়।

আশরাফ হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার বাবার ওপর অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে আনছুর আলম। সে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে করে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি।

ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বয়স্ক নুরুল আলমের সাথে। তিনি এই এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে। এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে আনছুর আলমের মোবাইলে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে আশরাফ হোসাইন একটি এজাহার দিয়েছে বলে শুনেছি। তবে এজাহারটি এখনও আমার হাতে আসেনি। এজাহারটি হাতে আসলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি ফেইসবুকে দেখেছি। যারা এই ভিডিওটি ফেইসবুকে আপলোড করেছে, তারাও মোটেও ভালো কাজ করেনি। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধের পরিবার-পরিজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। যারা এই ঘটনাটি ফেইসবুকে ভাইরাল করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরও পড়ুন