চটপটিওয়ালার সততার অনন্য দৃষ্টান্ত

বেলাল হোসেন একজন চটপটি বিক্রেতা। কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ রাস্তায় চোখে পড়ে একটি টাকার বান্ডিল। কুড়িয়ে নিল হাতে কিন্তু টাকা পাওয়ার পর সে বাসায় না গিয়ে ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা বান্ডিলটি নিয়ে রাতেই চলে গেলেন চেয়ারম্যানের বাড়িতে।

শুক্রবার (২ আগস্ট) চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে টাকার মালিক খুঁজে বের করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা তুলে দিলেন মালিকের হাতে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে পাওয়া ওই টাকা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়ে মহত্বের পরিচয় দিলেন চটপটি বিক্রেতা বেলাল হোসেন।

এমন মহত্বের পরিচয়দানকারী চটপটি বিক্রেতা বেলাল হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা গ্রামের নুরুল হক মোল্যার ছেলে। আর হারানো টাকার মালিক একই উপজেলার পারখুলা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ।

টাকার বান্ডিল কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়ে বেলাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলার কোলা বাজারে চটপটি বিক্রি করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে একটি টাকার বান্ডিল পড়ে থাকতে দেখে তুলে নিই। এরপর কুড়িয়ে পাওয়া এ টাকা নিয়ে ওই রাতেই চলে যাই চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেনের বাড়িতে। ঘটনাটি খুলে বললে টাকাটা আমার কাছেই রাখতে বলেন চেয়ারম্যান। তবে আমার অনুরোধে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হন টাকাটা রাখার জন্য। এরপর ২ জন মিলে টাকাটা গণনা করে দেখি বান্ডিলে মোট ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা আছে।

পরদিন এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে চেয়ারম্যান প্রমাণসাপেক্ষে টাকার মালিককে খুঁজে বের করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিনি সম্পূর্ণ টাকা হস্তান্তর করেন।

চটপটি বিক্রেতা বেলাল বলেন, আমি নিজে একজন অভাবী মানুষ। বাবা-মায়ের অভাবের সংসারে ছোট থেকে বড় হয়েছি। সব সময় সৎ উপায়ে কর্ম করে সংসার চালাই। কখনও কারও অর্থের প্রতি লোভ করিনি। প্রকৃত মালিকের হাতে টাকাটা ফেরত দিতে পেরে আমি খুশি।

এদিকে হারানো টাকা ফিরে পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় আবদুর রশিদ বলেন, আমি নিজেও গরিব মানুষ। ধার-দেনা করে কাঠের ব্যবসা করি আমার হারানো টাকাটা ফেরত পেয়ে মানুষ সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিময়ে বেলাল হোসেন ও চেয়ারম্যানকে মিষ্টিমুখও করাতে পারিনি।

সততার বিষয়ে কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেন বলেন, অভাব মানুষকে নষ্ট করতে পারে না বেলাল তার প্রকৃত উদহরণ। বেলাল একজন অভাবী মানুষ তারপরও পরের টাকার প্রতি তার বিন্দুমাত্র লোভ আমি দেখিনি। ওই রাতেই টাকাটা আমার হাতে তুলে দিয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। পরে আর একটি বারের জন্যও সে আমার কাছে শুনেনি টাকার মালিকের কোনো সন্ধ্যান মিলেছে কিনা। পরে তাকে জানানোর পরে সে উপস্থিত থেকে টাকাটা হস্তান্তরে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরও বলেন,বেলালের মতো সৎ মানুষদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে সমাজটা হবে আরও সুন্দর।

আরও পড়ুন