চলছে জামায়াতের নতুন আমির নির্বাচনের প্রস্তুতি

যুদ্ধ অপরাধের দায়ে ইসি নিবন্ধন হারানো জামায়াত নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। দলটির বর্তমান আমির মকবুল আহমাদের ৩ বছর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে। এর আগেই নতুন আমির নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে। এবার এ পদে নতুন মুখ আসতে পারে বলে অনেকে আভাস দিয়েছেন।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর শাখার এক নেতা শনিবার (২৭ জুলাই) বলেন, বর্তমানে দল গোছানোর কাজ করছে জামায়াত। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসের ১৮ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত সাংগঠনিক দশক ঘোষণা করা হয়েছিল। সারাদেশে সফলভাবে এ কার্যক্রম শনিবার শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, সাংগঠনিক দশকে গোপনীয়তা রক্ষা করে সারাদেশে ওয়ার্ডভিত্তিক রোকন (সদস্য) ও কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা সারাদেশ সফর করেন। তারা সমাবেশগুলোয় উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের দলীয় কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধকরণ ও মানোন্নয়নের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক দশক শেষে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে জামায়াত। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। তবে কবে কোথায় এসব কার্যক্রম হবে, তা আগে থেকে প্রচার বা প্রকাশ করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ত্রাণের পাশাপাশি জামায়াত নেতাকর্মীরা সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন আমির নির্বাচনের প্রস্তুতি: ২০১৬ সালে দলের রোকনদের গোপন ভোটে ২০১৭-১৯ কার্যকালের জন্য জামায়াতের আমির নির্বাচিত হয়েছেন মকবুল আহমাদ। এ বছরের ডিসেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। দলীয় প্রথা অনুযায়ী, এ বছরের অক্টোবরের মধ্যেই নতুন আমির নির্বাচনের কাজ শেষ হবে। সে হিসেবে এরই মধ্যে এ নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে দলটি।

সূত্র মতে, দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমির নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের মতো সব রোকন ভোট দিতে পারবেন না। ‘জাতীয় কাউন্সিলের’ সদস্যরাই শুধু এ গোপন ভোটে অংশ নিতে পারবেন। দলের আমিরে জামায়াত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সব সদস্য, জেলা-মহানগরী আমির, জেলা-মহানগরী মজলিসে শূরার সব সদস্য, উপজেলা-থানা আমির, উপজেলা-থানা মজলিসে শূরার সব সদস্য এবং সংগঠনের সদস্যদের (রোকন) মধ্যে যারা জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত হবেন, তাদের সমন্বয়ে জাতীয় কাউন্সিল গঠিত হবে।

জানা গেছে, এর আগে আমির নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হতো। তাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো। তবে নতুন গঠনতন্ত্রে প্যানেলের বিষয়টি নেই। তাই এবার সরাসরি একজনকে ভোট দেবেন কাউন্সিল সদস্যরা।

সূত্র মতে, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে যে কোনো সময় নির্বাচিত আমির শপথ গ্রহণ করবেন। তবে তার মেয়াদ শুরু হবে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে।

আরও পড়ুন