ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে চান বিবাহিত ও বাবারা

দীর্ঘ ২৮ বছরের মাথায় সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের নতুন নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। আর এই দুই শীর্ষ পদে নির্বাচন করার জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই ‘অবিবাহিত’ হতে হবে বলে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র নেওয়া ১১০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন বিবাহিত বলে অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্র না মেনে বিবাহিতরাও আসতে চান ছাত্রদলের নেতৃত্বে।

এবার ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যে কটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তার মধ্যে অবিবাহিত হওয়া উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া প্রার্থীকে অবশ্যই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে এবং ২০০০ সালে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রার্থীকে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে।

তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য অন্তত ১৩ জন ‘বিবাহিত নেতা’ মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন বিবাহিত নেতা মনোনয়নপত্র কিনেছেন। ছাত্রদলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তাছাড়া অনেকে বাবাও হয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সভাপতি পদে মনোনয়ন নেয়া বিবাহিত নেতাদের মধ্যে আছেন- আল মেহেদি তালুকদার, আরাফাত বিল্লাহ খান, আজিম উদ্দিন মেরাজ, মো. আব্বাস আলী, মাইনুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ ভদ্র, নজরুল ইসলাম নাহিদ, সিহাবুর রহমান।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে যেসব বিবাহিত নেতারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন তারা হলেন- নাদিয়া পাঠান পাপন, সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম শাহিন।

এ বিষয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করা সভাপতি পদে পদপ্রার্থী আল মেহেদি তালুকদার বলেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হয়েছে তখনো আমার বিরুদ্ধে এরকম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আমরা এরকম একটা প্র্যাকটিসের মধ্যে আছি যে নিজের যোগ্যতাকে প্রস্ফুটিত না করে যোগ্য ব্যক্তিদের কিভাবে বিতর্কিত করা যায় এই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের কত মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে এগুলো নিয়ে মানুষকে বিবাহিত বলার তো কোন কারণ হয় না। এগুলো হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করা সভাপতি পদে পদপ্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন বলেন, আমরা যারা মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি তাদের সকলের বয়স প্রায় একই। যেহেতু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রদলের প্রার্থী হতে হলে অবিবাহিত হতে হবে, আমার বিস্বাস বিবাহিত নেতারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য ষষ্ঠ কাউন্সিল এর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আমরা ছাত্রদল এর সকল নেতাকর্মী তাকে সাধুবাদ জানাই। আমি বিশ্বাস করি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ছাত্রদলের কাউন্সিল পরিচালনার জন্য যে সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছেন তা কোন বলয়ের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন এবং ছাত্রদলের তৃণমূলের কাউন্সিলর নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তানজিল হাসান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ছাত্রদলের কাউন্সিল করার যেই উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আর আমি বিশ্বাস করি তার পরামর্শেই ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হবে। আর তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে কমিটি গঠন করবেন তারেক রহমান। তিনি যেই সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা তাই মেনে নেব।

ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুল কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ফজলুল হকের নেতৃত্বে পাঁচজনের বাছাই কমিটি এবং শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আপিল কমিটির প্রধান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান বলেন, ছাত্রদলের নেতা হতে হলে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে ও ছাত্রত্ব থাকতে হবে। বিবাহিতরা ছাত্রদলের প্রার্থী হতে পারবেন না। এ বিষয়ে বাছাই কমিটি অবহিত আছেন।

আরও পড়ুন