জনপ্রিয় প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪ আসনে জনপ্রিয় ও সাংগঠনিক দক্ষ প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সাংগঠনিক ও একাধিক সংস্থা মাঠ জরিপ করছেন। দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত ও অধিকতর জনপ্রিয়-এমন যোগ্য নেতা খুঁজছেন তারা। এই উপনির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও আগে থেকে মাঠ জরিপ করে রাখছে চায় আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধশত। তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, ঢাকার ১৪ আসনে প্রায় অর্ধশত প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আসলামুল হকের মতো জনপ্রিয় দক্ষ প্রার্থী খুঁজছে আওয়ামী লীগ। আর কে হবেন আসলামুল হকের যোগ্য উত্তরসূরি তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন নীতিনির্ধারকরা। এদিকে ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে নিজের পরিচয় জানান দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

এলাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সরব রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। দোয়া ও ইফতার মাহফিল, ভার্চুয়াল সভাসহ ঘরোয়া ও বাইরের নানা অনুষ্ঠানে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উপস্থিত হচ্ছেন। আলোচনায় আছেন আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। আসলামুল হকের দলীয় সকল কর্মকাণ্ড সফল করার মূলে ছিলেন কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি। এ কারণে আসলামের খুবই কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই মিরপুরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হ্যাপী করোনা মহামারির মধ্যেও মানবতার ডাকঘরের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে প্রশংসিত হন।

আলাপকালে কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী জানান, ‘ ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে এখন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। ৩০ বছর ধরে এ আসনে মানুষের পাশে আছি। গত নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও চাইব। নতুন অনেকেই এ আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন। আমরা আমাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নেত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ হলো এই এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছেন এমন প্রার্থীকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

আরও পড়ুন:

শিবচরে ১৩ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত

 

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরে রাজনীতি করছি। তবে নির্বাচন করবো কিনা সেটা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’ ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিগত নির্বাচনে আশপাশের আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এমন অনেক নেতার নজরও এখন ঢাকা-১৪-এর দিকে। ঢাকা-১৪ আসনের আলোচনায় আরো যারা রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর এবিএম মাজহারুল আনাম, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টু, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হানিফসহ অর্ধ শত নেতা। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর ও অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে পোস্ট দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার কারণে সব নির্বাচন স্থগিত থাকায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামেননি। তবে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন:

সংসদ সদস্য আসলামুল হক আর নেই

 

গত ৪ এপ্রিল সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর ১৩ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এর গেজেট নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আসনটিতে উপনির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঢাকার মিরপুর, শাহআলী ও দারুস সালাম থানা, রূপনগর থানার আংশিক এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১৪ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড এ আসনের অন্তর্ভুক্ত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব এলাকা ঢাকা-১১ আসনভুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ঢাকা-১১ ভেঙে ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ আসন গঠন করা হয়।

ওই বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথমবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আসলামুল হক। প্রথমবার প্রার্থী হয়েই এস এ খালেককে পরাজিত করেন তিনি। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এলাকায় তার একক নেতৃত্ব ও কর্মী বাহিনীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তিনি ছিলেন অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে কেউ কেউ গোপনে ও প্রকাশ্যে আসলামুল হকের বিরোধিতা করেছিল। ঢাকা-১৪ আসনের অন্তর্গত তিন থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৬ নেতার মধ্যে ৫ জনই আসলামুল হকের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য এবং ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফ্যাকড-ক্যাব)’র সভাপতি কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি নৌকার পক্ষেই কাজ করেছিলেন।

 

 

আরও পড়ুন