ডেঙ্গু নিয়ে আগাম বার্তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ

আগাম সতর্কবার্তা থাকলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত মার্চেই দুই সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি বলেই এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মারা গেছে আরো পাঁচ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯। বেসরকারি হিসাবে মারা গেছে ৪৪ জন। ঢাকাসহ ৫০টি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ব্যাপক হারে বাড়লেও এখনো অ্যাডিস মশা মারার দৃশ্যমান কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি। মশা মারার ওষুধ অকার্যকর। কিন্তু কার্যকর ওষুধ জরুরি ভিত্তিতে আনা হচ্ছে না। ওষুধ আনতেই শেষ হয়ে যাবে ডেঙ্গুর মৌসুম। আর এতে অনেক মানুষ মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর দায়ভার কে নেবেন?

ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘প্রাণঘাতী এ রোগ যে ঢাকার বাইরেও ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তারা আগেই জানিয়েছিলেন। আশঙ্কা থেকেই আমরা ডেঙ্গু গাইডলাইন আপডেট করেছি। ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলা শহরে ডেঙ্গু টেস্ট কিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৫০টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তদের অনেকে ঢাকা থেকে রোগ নিয়ে গেছেন। তবে রাজধানীর বাইরেও অ্যাডিস মশার বিচরণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আক্রান্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাজেটে নতুনভাবে যুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডের মশক নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই। মশা মারার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই; তাই নেই জনবল, যন্ত্রপাতিও। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডগুলোতে কিছু যন্ত্রপাতি ও অস্থায়ী লোকবল নিয়োগ দিলেও তাকে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলছেন কাউন্সিলররা। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে তা-ও নেই।

রাজধানীর মশা নিবারণের জন্য আছে একটি ‘মশক নিবারণী দপ্তর’। রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একটু সামনে এগোলেই হাতের ডান পাশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়, লাল রঙে বড়ো করে লেখা ‘মশক নিবারণী দপ্তর’। এই দপ্তরের কার্যক্রমে এখন হযবরল অবস্থা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যখন মশা মারতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই দপ্তর করে যাচ্ছে শুধুই প্রাশাসনিক কাজ। কারণ মশা মারার কোনো উদ্যোগ তাদের নেই। মশা দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময় এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। ১৯৮০ সালের ২৬ জুন এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়। একসময় এই দপ্তরের কাজে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে সুনসান নীরবতা। এখন শহরের মশা দমনের কাজে নয়, সিটি করপোরেশনের মশার ওষুধের খালি ড্রাম সংরক্ষণের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই দপ্তরকে।

সরেজমিন ঘুরে এবং সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ম্যালেরিয়া নির্মূলে এই দপ্তর সফল হয়েছিল। ম্যালেরিয়ার বাহক মশা সারাবছর থাকে, কিন্তু অ্যাডিস মশা তিন মাসের। তারপরও অ্যাডিস মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জানা গেছে, মশক নিবারণী দপ্তরে জনবল আছে ২৭৬ জন। থাকার কথা ৩৯৬ জন। ১৯৮২ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মশক নিবারণী দপ্তরে ২৭৬ জন মাঠপর্যায়ের কর্মীকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ঐ থেকে তারা সিটি করপোরেশনের মাঠকর্মীদের সঙ্গে মশক নিধনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২৭৬ জনকে সিটি করপোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করা হলেও তাদের প্রাশাসনিক কার্যক্রম চলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে। আর সিটি করপোরেশন হলো স্বায়ত্বশায়িত। এই দ্বৈত শাসনের কারণে মাঠপর্যায়ে মশক নিধনের কার্যক্রমে হযবরল অবস্থা।

মাঠপর্যায়ের কর্মীরা জানান, ‘যে ওষুধ আমরা মশার জন্য ব্যবহার করছি, আসলে ওষুধ না পানি কিছুই বুঝি না। এই ওষুধে মশা মরে না। অ্যাডিস মশার বংশ নিধন হয় না।’

‘মশক নিবারণী দপ্তরের’ মূল ফটকের গায়েও ছোটো করে দপ্তরের নামের দুটি মনোগ্রাম দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশ করেই চোখে পড়ে সারি সারি হাজার খানেক খালি ড্রাম। এর মধ্যে কিছু ড্রাম আবার রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা পড়েছে। এর ভেতরে ও ফাঁকে ফাঁকে জমে আছে বৃষ্টির পানি এবং কিছু কিছু জায়গায় জন্মেছে আগাছা। প্রতিটি ড্রামের ধারণক্ষমতা ২০০ লিটার। দুই সিটি করপোরেশনের মশা মারার ওষুধের খালি ড্রাম এখানে রাখার কথা জানা গেলেও সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ ড্রামের গায়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি উল্লেখ করা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ঢাকাতেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৫৬। আর ঢাকা শহর বাদে ঢাকা বিভাগীয় এলাকায় রোগীর সংখ্যা ৩৯ জন। আর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২৫ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১১৩ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৪ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪৮ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪১ জন, বারডেম হাসপাতালে ২৩ জন, বিএসএমএমইউয়ে ৩৭ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২১ জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন, পিলখানার বিজিবি হাসপাতালে ১০ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

সারাদেশের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০১ জন, খুলনা বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪২ জন, বরিশাল বিভাগে ছয় জন ও সিলেট বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে গাজীপুরের তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৬ জন, গাজীপুরে পাঁচ জন, গোপালগঞ্জে পাঁচ জন, মাদারীপুরে ১৪ জন, মানিকগঞ্জে ১৬ জন, নরসিংদীতে দুই জন, রাজবাড়ীতে ৯ জন, শরীয়তপুরে সাত জন, টাঙ্গাইলে আট জন, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আট জন, কিশোরগঞ্জে ৫৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৮ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ৮৭ জন, ফেনীতে ৫৯ জন, কুমিল্লায় ৪৮ জন, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৭৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ১৪ জন, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ১২ জন, নোয়াখালীতে ২৩ জন, কক্সবাজারে সাত জন, খাগড়াছড়িতে চার জন, রাঙ্গামাটিতে এক জন, খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে ৪৬ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ৩৩ জন, যশোর আড়াই শ বেডের হাসপাতালে ৪৪ জন, ঝিনাইদহ ২৫০ বেডের হাসপাতালে ১৪ জন, বাগেরহাটে চার জন, সাতক্ষীরায় আট জন, চুয়াডাঙ্গায় চার জন, রাজশাহীতে ৫৩ জন, বগুড়ায় ৬০ জন, পাবনায় ৩৮ জন, সিরাজগঞ্জে আট জন, নওগাঁয় দুই জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ জন, নাটোরে এক জন, রংপুরে ৪৫ জন, লালমনিরহাটে দুই জন, কুড়িগ্রামে তিন জন, গাইবান্ধায় তিন জন, নীলফামারীতে দুই জন, দিনাজপুরে এক জন, পঞ্চগড়ে এক জন, ঠাকুরগাঁওয়ে চার জন, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন, পটুয়াখালীতে ছয় জন, ভোলায় ছয় জন, পিরোজপুরে দুই জন, ঝালকাঠিতে এক জন, সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।

আমাদের জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু জ্বরে গতকাল পাঁচ জন মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল মাহমুদ নয়ন নামে এক ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন। মৃত্যুবরণকারী নয়ন ধামরাই উপজেলার কুল্লা গ্রামের জলিল উদ্দিনের ছেলে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইম আহমেদ (১৪) তিন দিন জ্বরে ভোগার পর গতকাল দুপুর ৩টায় হাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনার পথে মারা যায়। সে ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের আছকির আলীর পুত্র।

বগুড়ার আদমদীঘিতে সাজেদুর রহমান সাজু নামের এক গাড়িচালক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আদমদীঘির ওপর পৌঁওতার আনছার আলীর ছেলে সাজেদুর রহমান সাজু (৩৫) একটি কোম্পানির গাড়ি চালাতেন। ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রবিবার ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে বাড়ি এসে সেলিম বিশ্বাস (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল করিম সরকার (৬০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা গেছেন। রবিবার মধ্যরাতে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়।

গতকাল দুপুরে গুলশান ক্লাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মশক নিধনের ওষুধ এখন থেকে সিটি করপোরেশন সরাসরি আমদানি করবে। ‘দুই কোম্পানির কাছে আমদানি করা মশার ওষুধ জিম্মি রয়েছে’— অভিযোগ করে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে এখন থেকে আমরা নিজেরাই সরাসরি ওষুধ আমদানি করব।

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু সেলের শয্যা সংখ্যা ৪০ থেকে বাড়িয়ে দেড় শতাধিকে উন্নীত করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কেবিন ব্লকের নিচতলায় ডেঙ্গু চিকিত্সাসেবা সেলের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

৫০০ টাকার ডেঙ্গু টেস্ট ১২০০, পপুলারকে জরিমানা:

ডেঙ্গু টেস্টের জন্য সর্বোচ্চ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তা মানছে না বেসরকারি পপুলার হাসপাতাল। ৫০০ টাকা না নিয়ে তারা ১২০০ টাকা নিচ্ছে। এ জন্য পপুলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ডেঙ্গু টেস্টে অতিরিক্ত ফি আদায় ও ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগে ল্যাবএইড, ইবনে সিনা ও স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে অধিদপ্তর। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সোমবার বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ও আব্দুল জব্বার মন্ডল।

আরও পড়ুন