ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মিন্নি

চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। বরগুনা থেকে ঢাকাগামী এমভি শাহারুখ লঞ্চে শনিবার বিকেল চারটায় মিন্নি রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিন্নির চাচা সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু সালেহ। তার সঙ্গে বাবা-মাসহ আরও কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর জানিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে তার মেয়ে মিন্নিকে পুলিশ নির্যাতন করেছে। তার দুই হাঁটুতে এখনো ব্যথা। তাছাড়া রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে মিন্নিকে আসামি করে পুলিশ চার্জশিট দেয়ায় মিন্নি দুঃশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছে। মিন্নি এখন মানসিক রোগী। তাই তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হচ্ছে।

গত ২৯ আগস্ট দুটি শর্তে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেছেন হাই কোর্ট। শর্ত দুটি হচ্ছে, মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না এবং তাকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে। জামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে তার জামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেছেন হাই কোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। গত ২৮ আগস্ট আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুলের ওপর হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। কিন্তু এক সেপ্টেম্বর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও মিন্নির জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

আগামীকাল মিন্নি তার প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বারে তার পক্ষে মুভ করা সব আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তাদের সঙ্গে মিন্নিকে জড়িয়ে মিথ্যা চার্জশিটের ব্যাপারেও কথা বলবেন। তবে আদালতের নিষেধ থাকায় মিডিয়ার সঙ্গে মিন্নি কোনও কথা বলবেন না।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে বর গুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে স্ত্রীর সামনে কু পিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ২৭ জুন ১২ জনকে আসামি করে মা মলা দায়ের করেন। পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত নয়টায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন