ঢাকা বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটি থেকে নাসিরকে বহিষ্কার

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বোট ক্লাব নির্বাহী কমিটি থেকে নাসির উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একইসাথে নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি এবং শাহ এস আলমের ক্লাবের সদস্য পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ড. বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে বোট ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে।

এর আগে পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সোমবার সাকলে নাছির উদ্দিন মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা দায়ের করেন পরীমনি। এরপর বিকলে মামলার প্রধান আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় নাসিরের বাসা থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি ৪ জন হলেন- পরীমনির বন্ধু অমি, লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।

মামলার বিষয় নিয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন,পরীমনি নিজে বাদী হয়ে মোট ৬ জনের নামে এ মামলা করেছেন (মামলা নম্বর ৩৮)। এর আগে সকালে রূপনগর থানার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন পরীমনি।

রোববার প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চান পরীমনি। পরে ঢাকার বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, ‘বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমনি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

‘এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদের পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!’

পরীমনি আরও লেখেন, ‘আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারি করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করার থাকবে তখন! আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!’

পরীমনি আবেগী ওই স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাচঁতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।’

এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে ‘নির্যাতনকারীদের’ নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন পরীমনি।

তিনি দুজনের নাম প্রকাশ করে জানান, তাদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাছির ইউ মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমনি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী।

 

 

আরও পড়ুন