তানজিল জনির লুক ম্যাজিক

শোবিজ অঙ্গন আর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে মডেল আর অভিনেতা অভিনেত্রীদের লুক বা গেটআপ, স্টাইল অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চরিত্রানুযায়ী কিংবা চেহারার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একজন আর্টিস্ট এর সত্যিকার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেন একজন কোরিওগ্রাফার। দেশীয় ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপারটা অনেকটা অবহেলিত থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টিকে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছেন তানজিল জনি। দেশের সেলিব্রেটি মডেল এবং চলচ্চিত্র নায়কদের লুক গেটআপ, স্টাইল এর মাধ্যমে পরিবর্তন করে আলোচিত হয়েছেন জনি।

বড় বড় শুটের নির্দেশক বা মডেলিং গ্রুমার ও ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার হিসেবেও কাজ করছেন তানজিল জনি। যিনি ফ্যাশন ‘মডেল তৈরির কারিগর’ হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চলচ্চিত্র আর ওয়েব সিরিজে দেশীয় অভিনেতাদের লুকে নিজের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিতে চান তানজিল।  এ ব্যাপারে জনি জানান, ‘আসলে প্রপার গ্রুমিং আর প্রস্তুতি থাকলে সবার ভেতর থেকে সৌন্দর্যটা বের করে আনা যায়। আমাদের চলচ্চিত্র আর ওয়েব সিরিজে লুক আর গেটআপ ম্যাজিক দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তরুণ পরিচালকরা এর মধ্যেই এসব নিয়ে ভাবছেন। যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।’

তানজিল জনি নিজেও চেষ্টা করছেন মডেলদের তৈরি করার জন্য। বর্তমানে দুই শতাধিক তরুণ তরুণীকে মডেলিং শেখাচ্ছেন তানজিল জনি। এজন্য তিনি একটি গ্রুমিং স্কুল চালু করেছেন। নাম ‘তানজিলস ক্রিয়েশন’। গেল বছর নভেম্বর থেকে তানজিল জনির এই ফ্যাশন গ্রুমিং স্কুল চালু হয়েছে। ক্লাসে মডেলিংয়ের মূল বিষয়গুলো হাতে কলমে শেখান তানজিল জনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রুমিং সিজন (স্কুল) আমার। তিনমাসের কোর্স বলেই এটিকে সিজন বলছি। যারা নিষ্ঠাবান, মনোযোগী, পরিশ্রমী তারা আমার গ্রুমিং স্কুলে থাকাকালীন মডেলিংয়ের বিভিন্ন শোতে অংশ নিতে পারে।’

 

গেল চার বছর ধরে গ্রুমার ও ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন তানজিল জনি। লেখাপড়া করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে। আজরা মাহমুদের মাধ্যমেই তার এখানে পথচলা শুরু। সাম্প্রতিক সময়ে এসে তানজিল জনির করা বেশ কিছু শুটের ছবি ভাইরাল হয়েছে। অনন্ত জলিলের পৃষ্ঠপোষকতায় হিরো আলমকে ভেঙে নতুন লুকে হাজির করেছিলেন তানজিল জনি। টিকটকার অপুর নতুন লুক নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র জুনিয়র মডেলদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন জনি। ২০২০ দেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন শো ট্রেসমি ফ্যাশন উইকে কাজ করেছেন তিনি। এ আয়োজনে ছয়টি দেশের বিদেশি কোরিওগ্রাফার মডেলরাও ছিলেন। এছাড়া ম্যাগাজিন, বিলবোর্ড ছাড়াও নানা মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নিজের কাজ নিয়ে তানজিল জনি বলেন, ‘পাঁচ বছর যাদের নিয়ে কাজ করতাম তারা প্রত্যেকেই ভালো অবস্থানে। এখন গ্রুমিং স্কুল শুরু করেছি। এর বাইরে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজটাও চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে যারা লুক পরিবর্তন করে কাজ করতে চায়, তারা আমাকে বেশি ডাকেন। যেটাই করি শতভাগ মনোযোগ দিয়ে করতে চাই। নতুনত্বের স্বাদ দিতে চাই।’

আরও পড়ুন