দেশের যুবসমাজের ভালো কাজ বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চান আশা

আলী আকবর আশা, বাংলাদেশ ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন ফোরামের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট। দেশের যুব সমাজের ভালো কাজগুলো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে তিনি কাজ করছেন। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গুরুত্ব¡ ও করণীয়কে উদ্বুদ্ধ করতে এই সংগঠনের সূচনা। বিডিএসআইএফ মূলত কোন ব্যক্তি সংগঠন নয়, এটি একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম।

সংগঠনের শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে আলী আকবর আশা বলেন, বিডিএসআইএফ নিয়ে যখন পরিকল্পনা করি, ওই সময় একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে আমি ব্র্যান্ডিং-এ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলাম। তখন সংগঠনকে বেশি সময় দেওয়াটা কষ্টকর ছিল আমার পক্ষে। শুধু এতটুকু উপলব্ধি করেছিলাম যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সবাইকে নিজেদের জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমি খেয়াল করেছি, প্রতিটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগতভাবে যারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে প্রায় সকলেই কোন না কোনভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যগুলো সামনে আসছে না। কর্মক্ষেত্রে অনুধাবন করলাম আমাদের পুঁথিগত শিক্ষার থেকে কৌশলগত দক্ষতা বেশি কাজে আসছে। সব মিলিয়ে কিভাবে শুরু করবো, এটা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিতে ছিলাম। ঠিক ওই সময় প্রযুক্তির সহায়তায় আমি ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন নাম এর একটি সাইট খুঁজে পাই। সেখানে দেখলাম উন্নত বিশ্বে নিজেদের আইডিয়াকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইনোভেশন হাব করা হয়েছে। যেখানে আপনি স্বাধীনভাবে নিজের আইডিয়াকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সহায়তা পাবেন। তখন আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, আমাদের দেশে প্রযুক্তিগত সামাজিক উদ্ভাবন মূলক আর কোন সংস্থা নেই, যারা ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন নিয়ে কাজ করে।

তখনই পরিকল্পনা করি এটা বাস্তবায়ন করার তখন ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় ছিলো। একই সাথে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও নিজেদের আইডিয়া বাস্তবায়ন কৌশলগত দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব ও সামাজিক উদ্ভাবনামূলক কর্মকাণ্ডের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আমাদের সবগুলো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা আয়োজন করি বাংলাদেশ ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন সামিট ও অ্যাওয়ার্ড ২০১৯। যেখানে আমরা নিজেদের কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভূমিকা ও প্রযুক্তিগত সামাজিক উদ্ভাবনা মূলক বিষয়ে সচেতনতা মূলক সেমিনার করি ও পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বিশেষ কিছু সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করি। যেখানে আমাদের দেশের নামকরা সকল জনপ্রিয় বক্তারা একই মঞ্চে এই আয়োজনে বক্তব্য দেন।

আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে ইউএন গ্লোবাল ফেস্ট এ প্রাইভেট অর্গানাইজেশন হিসাবে এককভাবে নমিনেশন পেয়েছিলাম। এবং প্রতিটা সেক্টরে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম। তবে এই আয়োজন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সংস্থা ছাড়াও সরকারের কাছে ও সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমবার বলে আমরা কোথায় সহযোগিতা পায়নি। পরে নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই আয়োজনটি সম্পন্ন করি। তবে গণমাধ্যম আমাদেরকে অত্যধিক সহযোগিতা করেছিলো। ৬টি জাতীয় টিভি চ্যানেল আমাদের সংবাদ প্রচার করে এবং প্রায় সবগুলো জাতীয় পত্রিকা আমাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে। পরবর্তীতে আরও অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। বর্তমানে বিডিএসআইএফর বদৌলতে একজন সোশাল ওয়ার্কার হিসেবে কানাডাতে বসবাস করছি। আপনারা কীভাবে উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে মূল্যায়ন করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে অনলাইনে আমাদের অফিসিয়াল ইভেন্টের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম গুলোতে একটি আবেদন ফরম লিঙ্ক প্রদান করে থাকি।

আমাদের কাছে পাঠানো আবেদনগুলো প্রাথমিক নির্বাচন করে একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করি অনলাইনে। যেখানে আবেদনকারীর ভালো কাজের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিজস্ব দক্ষতা তুলে ধরতে হয় বিস্তারিতভাবে। এই প্রক্রিয়ার পর জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। আমরা সাধারণত ওই সকল সামাজিক কাজগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি, যে কাজগুলোর দ্বারা সমাজ এবং মানুষ উপকৃত হয়। সেইসাথে যুবসমাজ অনুপ্রেরণা নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করি, সেই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। বিডিএসআইএফ এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? উত্তরে ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা বিডিএসআইফ-এর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন ফোরাম-এর মাধ্যমে প্রতিটা দেশে একটি করে কমিউনিটি স্থাপন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কমিউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছি। যেন বিশ্বের সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলোকে আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে পারি এবং এ থেকে যুব সমাজকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে প্রভাবিত করতে পারি।

আরও পড়ুন