দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ার আশঙ্কা

বাংলাদেশে ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে ডেঙ্গু। এখন পর্যন্ত সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগীর। সেই সাথে সারাদেশে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ইতোমধ্যে রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১টি ওয়ার্ডসহ বেশকিছু এলাকা এখনও ডেঙ্গুমুক্ত বলে দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে পুরো ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫১৩ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৫১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে পাঁচ হাজার ৮৩৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৬১ জন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের সব সরকারি হাসপাতাল ও প্রায় ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোর রোগীর হিসাব জমা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এছাড়া ঢাকা শহরে আরও অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও সারাদেশের আরও সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানকার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিদিন জমা হয় না। সে অনুসারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে, ডেঙ্গুতে এ মৌসুমে ‘সঠিক’ মৃত সংখ্যার হিসাব নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। অধিদপ্তরের মতে এই মৌসুমে ১৪ জনের মৃত্যু হলেও সারাদেশের হাসপাতালগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী এ সংখ্যা ৫০ জনের অধিক।

এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করি রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি-না। অনেকবার অনেকভাবে সাক্ষীদের ইন্টারভিউ নিয়ে নিশ্চিত হতে হয় যে মৃত্যুটা আসলে হাসপাতালে কীভাবে হয়েছে। সে কার্যক্রম আমাদের চলমান রয়েছে। আমাদের হিসাবে এ মৌসুমে মোট ১৪ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো আসলে কতোজন এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুও অন্য কারণে হতে পারে। এসব নির্ণয় করতেই আমাদের ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়।

অপরদিকে, রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হাঁপিয়ে উঠছেন চিকিৎসক, নার্সসহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের করিডোর, বারান্দা এমনকি চলার পথের দুপাশ দিয়েও বিছানা পেতে রোগীদের রাখা হয়েছে। যার অধিকাংশই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি না থাকায় রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া আতঙ্কের কারণে এখন সুস্থ মানুষও ডেঙ্গু নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, আট সদস্যের কমিটি ২০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-কে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু জ্বরে, যাদের ৭ জনের ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম ছিল। এই পরিস্থিতিতে রোগীর হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে যায়। রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সেবার দরকার হয়। আর দুজনের ছিল ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। তাদের রক্তক্ষরণ হয়েছিল। চারজনের ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের সঙ্গে অন্যান্য রোগ। একজনের ছিল ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে অন্যান্য রোগ।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেন, এ বছর দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় আক্রান্তদের অবস্থা জটিল হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা আছে। তবে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সবার হয়তো তা নেই। তাই কমিটি প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

আরও পড়ুন