নানা কারনে বন্ধ হচ্ছে না বাল্য বিয়ে

জয়পুরহাট থেকেঃ

সরকারী বিধি মোতাবেক ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে মেয়ের বিয়ে হলে তা বাল্য বিয়ে হিসেবে বিবেচিত হয়। কম বয়সে বিয়ে হলে নানা ঝুকিতে পড়তে হয়। সে কারনে বাল্য বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রতিদিন এ বিয়ে ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বাল্য বিয়ের কবল থেকে বেঁচে যাচ্ছে অনেকে। এ অপরাধে প্রতিনিয়ত জেল জরিমানাও হচ্ছে অনেকের। রোজ সকালে খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে দেশের কোথাও না কোথাও ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর। কিন্তু নানা কারনে বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহিৃত এ বাল্য বিয়ে। বিয়ে বন্ধে বা এ সমস্যা থেকে উত্তরনের লক্ষে কাজ করছে সরকার।

পাশা-পাশি র‌্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং মানব বন্ধন করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দেশব্যাপী নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অথচ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে এ বিয়ের সংখ্যা। এ বিষয়ে বিভিন্ন জেলার উচ্চবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত, নিম্ন বিত্ত এবং হতদরিদ্রসহ প্রায় একশত পরিবারের উপর জরিপ চালানো হয়েছে।

জানা গেছে বাল্য বিয়ে বন্ধ না হওয়ার অনেক তথ্য। হতদরিদ্র পরিবারের মা বাবার কাছ থেকে উঠে এসেছে অনেক অজানার কারন। যা নিয়ে কেউ কোনদিন হয়তো ভাবেই না। তাই এ বিয়ে বন্ধ না হওয়ার যে কারন তার পিছনের কারন জানা দরকার আছে বলে মনে করেন অনেক পিতা-মাতা। তারা বলেন, একদিকে দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত অন্যদিকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে একাধিক লোমহর্ষক নারকীয় ঘটনার কারনে সব সময় উদ্বেগ উৎকন্ঠায় থাকে তাঁরা। দ্বিতীয়ত পড়ালেখার ব্যায়ভার সরকার যা দেয় তা যথেষ্ঠ নয়। একজন মেয়েকে বড় করতে গেলে ভরন পোষন অনেক।

দারিদ্রতার কারনে তা সম্ভব হয় না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যা রোজগার হয় কোনমতে অনাহারে অর্ধাহারে সংসার চলে। তাছাড়া যেটুকু শেষ সম্বল তা দিয়ে পড়ালেখা শেষ করালেও টাকা ছাড়া চাকুরী নাই। বিপদ আরও বাড়বে বৈকি। সব হারিয়ে শেষ বয়সে পথে বসতে হবে। তার চেয়ে কম পড়ালেখায় ভালো। একটু চোখ ফোটার পর মেয়েদের বিয়ে দিতে পারলেই নিশ্চিন্ত। মাথার উপর ছাতা হবে, দুবেলা দুমুঠো পেট ভরে খেতে পারবে, স্বামীর দায়িত্বে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে এর থেকে গরীবের বেশি চাওয়া আর কি থাকে। তারা আরও জানান, দারিদ্ররা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, শ্রম বিক্রি করেই তারা বেঁচে থাকে।

সমাজ থেকে কিছু পাবার আশা নেই তাদের। সমাজ পতিদের কোন দায়ভার নেই এই মানুষ গুলোর প্রতি। বেশিরভাগ বিত্তবানদের ধারনা দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হোক, আরও পিছিয়ে পড়–ক এই জনগোষ্ঠী, তাহলে তারা তাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে। ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারবে এমতাবস্থায় তারা নিরুপায়। নেই অর্থ না আছে সামর্থ, এমনত নয় যে তাদের ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত হবে বা ভালো কিছু করবে, আর এটা কোনদিন সম্ভব নয়। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি পাত্রস্ত্র করা যায় ততই মা-বাবার জন্য মঙ্গল। সরকারসহ বহু এনজিও মানবাধিকার সংগঠন অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত দারিদ্রোর সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় যাদের বাস্তবে ভালো মন্দ তারাই বোঝে। দু-বেলা খেয়ে পড়ে যেখানে জীবন ধারন কষ্টসাধ্য, বিলাসিতা সেখানে দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও উল্লেখ করেন ভুক্তভোগিরা।

আরও পড়ুন