নৌকার লড়াইয়ে সিলেটের নেতারা ব্যস্ত ঢাকায়

আওয়ামী লীগের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট হবে ১৪ জুলাই। ২ জুন নির্বাচনের তফশিল ঘোষিত হয়েছে। এরপরই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র কেনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও তদবির-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অনেকটা ফাঁকা মাঠই বলা যায়। দলীয় প্রতীক নৌকা পেলে ফাঁকা মাঠে নিশ্চিত গোল দেওয়া যাবে- এমন আশায় এখন আর ঘরে বসে নেই কেউ। সবাই চাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। এখন পর্যন্ত অন্তত দুই ডজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএমএর মহাসচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বা ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল দলীয় মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হলে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।

 

এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে আমি রাজনীতি শুরু করেছি। এখন তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা রেখে দল ও মানুষের জন্য কাজ করছি। এলাকার মানুষ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে দেখতে চাইছেন। এখন নেত্রী চাইলে আমি নির্বাচন করব।’

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত কখনো আদর্শচ্যুত হইনি। সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিই করে যাব। সাড়ে তিন বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এখন আমার হাতে অফুরন্ত সময়। এ সময়টুকু মানুষের কল্যাণে কাটাতে চাই। প্রিয় নেত্রী চাইলে আমি তার উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

প্রায় একযুগ ধরে সিলেট-৩ আসনে জনসাধারণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। এমপি হলে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে তাকে পাওয়া যাবে- এমন বিশ্বাস স্থানীয়দের।

নির্বাচন প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘মানুষের জন্য রাজনীতি করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুঃসময়ে মানুষের পাশে ছিলাম। অতীতে মনোনয়নবঞ্চিত হলেও কখনো দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি। আশা করছি, এবার দল মূল্যায়ন করবে।’

এ ছাড়া এ আসনে দলীয় মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা এনাম উল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা শাহ মুজিবুর রহমান জকন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, কবির উদ্দিন, সাইফুল আলম রুহেল, বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, শমসের জামাল, কফিল আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম মিসবাহ, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট দেওয়ান গৌস সুলতান, মনির হোসাইন, ফেঞ্চুগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বাছিত টুটুল, দক্ষিণ সুরমার আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল আলম, মোহাম্মদ আবু জাহিদ ও বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাকুর রহমান মফুর।

এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনের বাইরের বাসিন্দা হলেও আসনটিতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম লীর সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

 

 

আরও পড়ুন