নৌশ্রমিকদের কর্মবিরতি

চাঁদাবাজি বন্ধ, বর্ধিত বেতন, খাদ্যভাতাসহ ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত (১২টার পর) থেকে সারাদেশে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম কর্মবিরতি কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দাবি-দাওয়া পূরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে কর্মবিরতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি ফেডারেশন।

গত বুধবার সচিবালয়ে ফেডারেশনেরে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র এবং সার্ভিস বুক দেবেন মালিক। এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না-তা তদারকি করবে নৌ পরিবহন অধিদফতর।

এছাড়া এ খাতের শ্রমিকদের খাদ্যভাতা দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌ পরিবহন শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠনের বিষয়ে নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালককে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন নেতাদের তাদের ৩০ নভেম্বর থেকে আহুত কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। শ্রমিকরা নেতারা অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

পরে বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। ওইদিন শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়েও সভা করে ফেডারেশন। সেখানে দাবি আদায় না হওয়ার পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন থেকে সরে না আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে তারা কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ মালিকই সেই সভায় অংশ নেননি, আর এসব সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক প্রতিনিধিদের সভায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে কিছু বিষয় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি চলবে।’

দাবিগুলোর মধ্যে যা আছে
বাল্কহেডসহ সব নৌ-যানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ। ২০১৬ সালের ঘোষিত গেজেট মোতাবেক কেরাণী, কেবিনবয় ও ইলেকট্রিশিয়ানসহ সব নৌ-শ্রমিককে বেতন প্রদান।

ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানি বন্ধ। সব নৌ-শ্রমিককে মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা প্রদান। এনড্রোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ। কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

নৌ-শ্রমিককে মালিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দিতে হবে। নৌ-শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নদীর নাব্যতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন। মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিরতণ, সনদ নবায়ন, পরিদর্শনসহ নৌ পরিবহন অধিদফতরের সব প্রকার অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ। চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দরে আউটারে চলাচলকারী শ্রমিকদের সি-এলাউন্স দিতে হবে।

আরও পড়ুন