পরকীয়ার জেরে সৌমেন স্ত্রী-সন্তানসহ তিনজনকে হত্যা করে

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী-সন্তান ও যুবককে হত্যা মামলার আসামি পুলিশের এএসআই (বরখাস্ত) সৌমেনকে জবানবন্দি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এনামুল হকের আদালতে সৌমেনকে হাজির করা হয়। সেখানে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এদিকে নিহত শাকিলের পিতা মেজবার রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুপুরে ১টার দিকে কুষ্টিয়া ডিবি কার্যালয় থেকে সৌমেনকে আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ ঘণ্টা ধরে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া না গেলেও আসামি সৌমেন বিচারকের কাছে ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় জড়িত বলে দোষ স্বীকার করেন। পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিকাল ৫টার দিকে আসামিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত আসমা এসএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সৌমেন আসমার তৃতীয় স্বামী। এর আগে আসমা আরও দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নিহত শিশুপুত্র রবিন আসমার দ্বিতীয় স্বামী রুবেলের সন্তান। আসমার প্রথম স্বামী সুজনের ঘরে সুমি নামে ৯ বছরের আরেক মেয়ে রয়েছে। কুষ্টিয়া জেলায় কর্মকালীন এএসআই সৌমেনের সঙ্গে আসমার পরিচয় থেকে পরিণয় এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এদিকে খুলনায় এএসআই সৌমেনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের খবর জানতে পারায় সৌমেনের সঙ্গে আসমার বাক বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে আসমা বিকাশের পরিবেশক শাকিল খানের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সৌমেন চরম ক্ষিপ্ত হন। পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরেই সৌমেন ট্রিপল মার্ডার সংঘটিত করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

আরও পড়ুন