পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ইউরোপের : তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান এক বছরের বেশি সময় ধৈর্য ধরে আছে এবং ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য অবশিষ্ট দেশগুলোকে সুযোগ দিয়েছে ইরান।

দীর্ঘ সময় পেলেও ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতার বিনিময়ে ইউরোপ ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা তারা বাস্তবায়ন না করায় প্রতিশোধ হিসেবে ইরান পাঁচ দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।

পরমাণু সমঝোতার নীতিমালা অনুযায়ী ইরান পরমাণু কার্যক্রম কমিয়ে আনলেও মার্কিন চাপের মোকাবেলায় ইউরোপ এখন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রয়েছে এবং উল্টো পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে।

 

ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর নির্বাহী বোর্ডের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরান এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন। একইসঙ্গে তারা অবিলম্বে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ খাতিবযাদেহ ইউরোপের ওই তিন দেশের বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তার দেশ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতা চালাচ্ছে এবং এটা ইরানের অধিকার।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফও ইরানের একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করায় এবং ইউরোপও ইরানের স্বার্থ রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে। কেননা পরমাণু সমঝোতার ৩৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে প্রতিপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করলেও ইরান সমঝোতার কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইউরোপও যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে আসে এবং মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাহলে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার সুযোগ নষ্ট হবে। ওয়াশিংটনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংকের নির্বাহী প্রধান জর্জিয়া কাফিরো বলেছেন, তেহরান ইউরোপকে এ বার্তা দিয়েছে যে ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের জন্য পরিণতি ভাল হবে না এবং তাদের উচিত আমেরিকার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছে স্বাধীনভাবে চলা।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যত ইরান নয় বরং তাদের ওপরই নির্ভর করছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপের ওই তিন দেশ পরমাণু সমঝোতায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়ে সেটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ এনেছে যা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

আরও পড়ুন