পিকে হালদারের সহযোগী স্বপন মৈত্রের স্ত্রীকে ইডি’র নোটিশ

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মূল অভিযুক্ত পি.কে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে শিব শঙ্কর হালদার। এবার তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে পিকের অন্যতম সহযোগী স্বপন মৈত্রর স্ত্রী পূর্ণিমা মৈত্রকে নোটিশ দিয়েছে ইডি।

ইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার অফিসার বিজয় কুমারের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতে সমস্ত নথি নিয়ে আগামী ২৯ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় ইডির আঞ্চলিক কার্যালয় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দেখা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পূর্ণিমাকে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট- ২০০২ আইনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৩ ও ১৪ মে অশোকনগরসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। এরপর ১৪ মে পি.কে হালদারের সাথেই গ্রেফতার করা হয় তার ভাই প্রাণেশ হালদার, স্বপন মিস্ত্রি ওরফে স্বপন মৈত্র, উত্তম মিস্ত্রি ওরফে উত্তম মৈত্র, ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার এবং আমানা সুলতানা ওরফে শর্মী হালদারকে।

 

গত ১৩ মে অভিযান চালানো অশোকনগরের ১৬২/৮ দক্ষিণপল্লী ঠিকানায় অবস্থিত পিকে হালদারের অন্যতম সহযোগী সুকুমার মৃধার বাড়িতেও। ওই বাড়ির আলমারি ও ট্রাঙ্ক থেকে বেশ কিছু দলিল এবং নথি উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রাথমিক ধারণা সুকুমারের বিশাল সম্পত্তির পেছনে রয়েছে বেআইনি লেনদেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক অসঙ্গতির সন্ধান মেলায় ওইদিন রাতেই অভিযুক্ত সুকুমার মৃধার বাড়ি সিলগালা করে দেয় ইডি’র কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে বাড়ির প্রধান গেটে তদন্তকারীদের তরফে একটি নোটিশও দেওয়া হয়।

ওইদিনই অশোকনগর ৫২৭/৮ নম্বর ঠিকানার বাসিন্দা পিকে হালদারের আরও দুই সহযোগী স্বপন মৈত্র ও তার ভাই উত্তম মৈত্রের বাসাতেও অভিযান চালানো হয়। সে সময় স্বপন মৈত্রের স্ত্রী পূর্ণিমা জানায়, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতে এসে তারা এদেশের পাসপোর্ট, রেশন কার্ড, ভোটার আইডেন্টিটি কার্ড সহ বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে ফেলেছিল। পূর্ণিমা মৈত্রের আরও দাবি ছিল তার স্বামী স্বপন মৈত্র মাছের ব্যবসা করেন এবং কোনরকম অবৈধ কাজকর্মের সাথে তারা যুক্ত নয়। যদিও তাদের বিলাসবহুল বাড়ি এবং আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি দেখে পূর্ণিমা মৈত্রর উপরেও নজর ছিল ইডির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের।

পিকে হালদার সহ গ্রেফতারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধেই প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অর্থ-পাচারের ক্ষেত্রে পূর্ণিমার আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কি না, থাকলেও তা কোন পর্যায়ের- সে সবই খতিয়ে দেখছিল ইডির কর্মকর্তারা। কিন্তু এরই মধ্যে স্বপনের পরিবারের বাকি সদস্যরা অশোকনগরের বাড়ি তালাবন্ধ করে অন্যত্র চলে যান। এমনও অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারীদের কোন রকম সহযোগিতা তারা করছেন না।

এরপরই শনিবার তদন্তকারীদের একটি দল অশোকনগরে এসে স্বপনের তালাবন্ধ বাড়ির বাইরের দেওয়ালে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। যেখানে স্বপনের স্ত্রী পূর্ণিমা মৈত্রের উদ্দেশ্যে লেখা রয়েছে, আগামী ২৯ জুন সকাল ১০.৩০ মিনিটে ইডির আঞ্চলিক দপ্তর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স-এ যেন তিনি দেখা করেন। সে সময় তার পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাংকের পাস বই, ইনকাম ট্যাক্স সম্পর্কিত নথি, বারাসাতে থাকা তাদের একটি ফ্ল্যাটের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার নামে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা যাবতীয় সম্পত্তির হিসাব সম্পর্কিত নথি নিয়ে পূর্ণিমা যেন দেখা করেন।

যদিও রবিবার স্বপন মৈত্রের অশোকনগরের বাড়ির সামনে গেলে তার প্রতিবেশীরা কেউই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। ইতোমধ্যেই আদালতের তরফে কয়েক দফায় ইডি রিমান্ড এবং জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর পিকে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তের প্রত্যেকেই কারাগারে বন্দী রয়েছেন। অভিযুক্তদের জেরা করে ইতোমধ্যেই নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রচুর সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের একাধিক শহরে। এ পর্যন্ত ৮৮টি ব্যাংক একাউন্টের খোঁজ পেয়েছে ইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ১৪ দিনের জেল-হেফাজত শেষে আগামী ৫ জুলাই অভিযুক্তদের ফের কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন