পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ ধ্বংসের নেপথ্যে

আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট। আমাজান এতটাই বড় যে এটি প্রায় ৩৮টা বাংলাদেশের সমান আয়তন ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার। আমাজন বন নয়টি দেশজুড়ে বিস্তৃত তার ৬০ ভাগ ব্রাজিলে। এ বন পৃথিবীর ২০ ভাগ অক্সিজেনের যোগান দেয় আর শোষণ করে ৪ ভাগের ১ ভাগ কার্বন-ডাই-অক্সাইড। তাই আমাজান কে বলা হয় পৃথিবীর ‘ফুসফুস’।

প্রাচীনকাল থেকেই অভিযাত্রীরা আমাজনে যাত্রা করে মূলত স্বর্ণ-রৌপ্য এবং ধনরত্নের খুঁজে। তারা বিশ্বাস করত বিশাল এই বনের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে আছে ‘এলডোরাডো’ নামক এক গুপ্ত শহর যা পুরোপুরি সোনার তৈরি।

এই ভ্রান্ত ধারণা এসেছে গ্রিক পৌরাণিক গল্প থেকে। যেখানে বলা হয়েছে সোনায় মোড়ানো এই শহরটি পাহারা দেয় আমাজন নামের নারী যোদ্ধারা। আর তাদের নাম অনুসারে এই বনের নামকরণ করা হয় আমাজন।

বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে এই বনটি। এলডোরাডো গুপ্তধন না পেলেও আমাজনের সম্পদ আহরণে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে বন। যা সব থেকে বড় উদাহরণ ৩ সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা দাবানল।

আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত জায়গা গুলোর একটি। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ বন শুষ্ক থাকে ফলে এসময় দাবানল স্বাভাবিক। তবে শুধু ২০১৯ সালের ৭৪ হাজারেরও বেশি আগুনের ঘটনা ঘটে আমাজনে। যা এর আগের বছরের তুলনায় ৮৩ ভাগ বেশী।

একটি রেইনফরেস্টে এতগুলো আগুনের ঘটনা অস্বাভাবিক। শুধুমাত্র কাঠের প্রয়োজনে যে পরিমাণ বন ধ্বংস করা হয় তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ধংশ করা হয় বাণিজ্যিকভাবে পশু পালন এবং অবৈধ উপায়ে সোনার খনির খোঁজে।

আমাজানে ৪ লাখ ৫০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা পরিণত করা হয়েছে গোচারণ ভূমিতে। আর বোনের ২৪৫টি স্থানে অবৈধ সোনার খনি আছে ২ হাজার ৩১২ টিরও বেশি। যা থেকে প্রতি বছর অবৈধভাবে সোনা বেচাকিনা হয় প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার। আর এসব কারণে উজার হচ্ছে বন। আগুন লাগছে আমাজনে।

এছাড়া সম্প্রতি আমাজনের মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণ রেলপথ স্থাপন, বন্দর ও নৌপথ নির্মাণের মতো বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে ব্রাজিল সরকার। এসব প্রকল্পের গভীর জঙ্গল থেকে তেল-গ্যাস কয়লাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা। আর এসব করতে গিয়ে দ্রুত সাভার হচ্ছে বল আগুন লাগছে প্রায়ই। দূষিত হয়ে পড়ছে বনের নদী গুলো। আমাজন কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় পৃথিবীর জলবায়ু এর উপর নির্ভরশীল। ব্রাজিল সরকারের উচিত এবং রক্ষায় আরো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

আরও পড়ুন