পেঁয়াজের দাম তিন গুণ বৃদ্ধি, জেনে নিন বাজার দর

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছু পেঁয়াজের এলসি মূল্য ৪০০ ডলারে করা আছে। সেই পেঁয়াজ আজ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আমদানি করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার নতুন রফতানি মূল্যের পেঁয়াজ আমদানি করতে ব্যাংকে এলসি করা হবে। হয়ত এ দিন থেকেই নতুন মূল্যের পেঁয়াজ দেশে ঢুকবে। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদেরও বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে।

তবে নতুন মূল্যের এই পেঁয়াজ দেশে আসতে এখনও দুই-তিনদিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। এর ফলে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বাংলাদেশে বিক্রি করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে পেঁয়াজ রফতানিতে নিরুৎসাহিত করতে সরকার এই প্রদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই মূল্যের পেঁয়াজ এখনও বাংলাদেশে রফতানি শুরু করা হয়নি। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০-৫০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতে বন্যার কারণে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পেঁয়াজের রফতানি মূল্য প্রায় তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে দু’দফায় এই মূল্য বাড়িয়ে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী গণমাধ্যমকে বলেন, এক বছর আগে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে ‘রফতানি মূল্য’ তুলে নেয় ভারত সরকার। এরপর থেকে দেশের ব্যবসায়ীরা কোনো রফতানি মূল্য ছাড়াই ১৫০-২০০ ডলার মূল্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতেন। ফলে বন্দরের ব্যবসায়ীরা ১৫-২০ টাকা করে পাইকারি মূল্য পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন। গত দুই মাস থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৩৫০-৪০০ ডলারে বৃদ্ধি করলে ৩২-৩৬ টাকায় পাইকারি বিক্রি হয়।

ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পান্না ও অনিল ঠাকুর জানান, ভারতের মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এবার এসব অঞ্চলসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যায় পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এজন্য ভারতজুড়ে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। গত দুই মাস থেকে ৩৫০-৪০০ ডলারে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ গত বুধবার আবার বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে ৮৫২ ডলার করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।

হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, ভারত থেকে ৩৫০-৪০০ ডলারে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছিল। তাতে বন্দরের মোকামে পেঁয়াজের প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছিল ৩২-৩৬ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার আবার প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকায়। ৮৫২ ডলারে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে প্রতি কেজিতে ৭২ টাকার মত পড়বে। এ কারণে পেঁয়াজ আমদানি করা নিয়ে ব্যবসায়ীরা সবাই চিন্তাগ্রস্ত।

আরও পড়ুন