প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় প্রেমিকার মাধ্যমে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ফয়সাল নামের এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে মেরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে রাত আটটায় সদর মডেল থানা পুলিশ নগরীর খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

বুধবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের খানপুর ব্রাঞ্চ রোডে আলতাফ মিয়ার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ফয়সাল সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল চৌধুরী বাড়ি এলাকার নূরুজ্জামানের ছেলে। সে পেশায় এসি মিস্ত্রী ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ফয়সালের স্বজনদের দাবি, ফয়সালকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার প্রেমিকার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নগরীর বরফকল এলাকা থেকে নিহত ফয়সালের প্রেমিকা সামিয়ার ভাইসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হল-নিহত ফয়সালের প্রেমিকার বড় ভাই মো: আসিফ (২০), তার চার বন্ধু সাকিব (১৫), মিলন (১৮), সানজিল (১৭) ও সায়েম (১৮)।

ফয়সালের বড় ভাই সজিব হোসেন বলেন, শহরের খানপুর বরফকল এলাকার সামিয়া নামের এক মেয়ের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিলো ফয়সালের। কিন্তু মেয়ের পবিরার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছিলো না। বুধবার বিকেল তিনটার দিকে প্রেমিকা সামিয়াকে দিয়ে প্রেমিক ফয়সালকে বাড়িতে ডেকে নেন সামিয়ার বড় ভাই আসিফ। এ সময় আসিফ তার বোনের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বলে ফয়সালকে। ফয়সাল কথা না বাড়িয়ে মোবাইলটি ফেরত দেয়।

পরে প্রেমিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে আসিফ ফয়সালকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রেমিকার অন্যান্য স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফয়সালের উপর। বেধড়ক পেটাতে থাকে তাকে। এ সময় আসিফ ঘটনাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পিটুনীতে ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রেমিকার ভাই আসিফ তার বন্ধুবান্ধবদের ঢেকে নেয়।

৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সেলিনা জানিয়েছেন, ছেলেটিকে হাসপাতালে যখন আনা হয়েছে তখন সে মৃত ছিলো। হাসপাতালে আনার পূর্বেই সে মারা গেছে।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের মা শিউলী বেগম খানপুর হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং কান্নায় লুটিয়ে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্ত সহ বিচার দাবি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদিন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত বিষয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহের মুখমন্ডলে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফয়সালকে হত্যা করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন