ফের বাংলাদেশকেই দায়ী করল মিয়ানমার

বহুল অপেক্ষার পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও ভেস্তে গেছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার কার্যক্রম। তবে এ ঘটনার পেছনে ফের বাংলাদেশকেই দায়ী করেছে মিয়ানমার। যদিও রোহিঙ্গারা বলছেন তাদের নাগরিকত্বসহ বেশ কয়েকটি দাবি না মেনে নিলে তারা ফিরবেন না।

এদিকে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারায় বাংলাদেশকেই দায়ী করলেও অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার জন্য যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ।

জানা গেছে, বৈশ্বিক চাপ কমানোর কৌশল হিসেবে ‘লোকদেখানো প্রত্যাবাসন’ নাটক মঞ্চস্থের জন্য সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়েসহ অন্য কর্মকর্তারা।

ফেরার মতো পরিবেশ সৃষ্টি না করেই গত বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু করার অপেক্ষায় ছিল মিয়ানমার। আর সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার দায় এড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের।

আস্থার অভাবে একজন রোহিঙ্গাও সেদিন না ফেরায় প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের প্রশাসক নুয়ে তুন বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে কেন ফিরছে না তা তাঁরা জানেন না।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘ প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে সৃষ্টি হয়নি। বরং সেখানে সংঘাতের কারণে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের ৯টি সেনা চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন শুরু করে। সেই সাথে চলে ধর্ষণ বসত-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হত্যাসহ নানা লোমহর্ষক ঘটনা। সে বছরের ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা এদেশে প্রবেশ করতে থাকে। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়।

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি ক্যাম্পে এসব রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা তাদের খাবার এর ব্যবস্থা করছে।

আরও পড়ুন