বন্যার পর এনায়েতপুরে শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন

সিরাজগঞ্জ থেকেঃ

সিরাজগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি উন্নত হলেও শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। নদীর তীব্র স্রোতে  সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানার বেতিল স্পার বাঁধের ৫০ মিটার এলাকা ধসে গেছে। আকস্মিক ধস নামায় এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই যমুনার পানি তীব্র গতিতে বাড়তে থাকে। ১৪ জুলাই বিপদসীমা অতিক্রম করে। ১৮ জুলাই সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার সর্বোচ্চ ৯৯ সেন্টিমিটার ও কাজিপুরে ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার ৬টি
উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

১৯ জুলাই থেকে পানি কমতে থাকে এবং ২৩ জুলাই বিপদসীমার নিচে নেমে যায়। ২৪ জুলাই থেকে আবারও পানি বাড়তে থাকে এবং ২৫ জুলাই বিপদসীমা অতিক্রম করে। একদিন স্থিতিশীল থাকার পর ২৭ জুলাই থেকে কমে ২৮ জুলাই বিপদসীমার নিচে চলে যায় যমুনা নদীর পানি। এর পর থেকে শুরু হয় ব্যাপক ভাঙ্গন। গত তিন দিনে এনায়েতপুরে অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে এনায়েতপুরের আরকান্দি, ব্রামন গ্রাম, জালালপুরের আরো শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রসা। ভাঙ্গনের কারনে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। যমুনায় পানির প্রচন্ড স্রোতে ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে গত রবিবার রাতে বেতিল স্পার বাঁধের ৫০ মিটার এলাকা ধ্বস নেমে নদীতে বিলনি হয়ে গেছে। বালির বস্তা ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ধস ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঁধের মুল ষ্ট্রাকচারের পশ্চিম পাশের ডান সাইডের মাটির স্যাংঙ্কে এ ধস নামে। একারনে স্পার সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারী কলেজ ও মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউড সহ বহু তাঁত কারখানা ও অসংখ্য ঘর- বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।

খুকনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দীন ব্যাপারী বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টা বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর পাশেই আছে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, এনায়েতপুর থানা, কাপড়ের হাট। যে ভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে এলাকার লোকজন কোথায় যাবে। তাদের যাওয়ার জায়গা নাই। এনায়েতপুরকে রক্ষা করতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নাই। ৯নং খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, বন্যা আসার পর থেকে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব এসেছিলেন। তিনি আসার পর কিছু জিও ব্যাগ (বালির বস্তা) ফেলা হয়েছে। আমার ইউনিয়নে ৪২ হাজার ভোটার। আমি জিআর চাউল পেয়েছি মাত্র ৭টন। সে ক্ষেত্রে কত জনকে দেয়া যায়। খুকনী ইউনিয়নের অর্ধেক এখন যমুনার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ও বগুড়ার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক আবদুল্লাহ-আলফায়াজ তাৎক্ষণিকভাবে সলিড স্পার পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাঁধের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করায় প্রবল স্রোতের কারনে স্কাউয়ারিংয়ের ফলে বাঁধের ৫০ মিটার এলাকার মাটি সরে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ সংস্কার কাজ চলছে, এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।

আরও পড়ুন