বহুদিন পর এক হলেন কবরী-রোজী

প্রয়াত অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী-রোজী আফসারী। ১৯৬২ সালে আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ‘জোয়ার এলো’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন রোজী। অন্যদিকে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবনের শুরু করেন কবরী। এককথায় অভিনয় জগতে এই দুই অভিনেত্রী সমসাময়িক ছিলেন বলা যেতেই পারে। এই দুই অভিনেত্রী এক হয়ে অভিনয় করেছেন বহু ছবিতে। আজ তারা কেউ নেই। দুইজনই শুয়ে আছেন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে।

অভিনয় ছাড়াও তারা নাকি অনেক ভালো বন্ধু ছিলেন। এমনটাই বলেছেন অভিনেত্রী রোজীর স্বামী মালেক আফসারী। ফেসবুকে দুইজনের একটি ছবি পোস্ট করে মালেক লিখেছেন, ‘ওরা দুজনেই বন্ধু ছিলো। বহুদিন পর ওরা একসাথ হলো। আল্লাহ ওনাদের ভালো রাখুন।’

 

ওরা দুজনেই বন্ধু ছিলো। বহুদিন পর ওরা একসাথ হলো। আল্লাহ উনাদের ভালো রাখুন।

 

Posted by Malek Afsary on Friday, April 16, 2021

 

 

সারাহ বেগম কবরী: গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত কবরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন কবরী।

 

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবনের শুরু। ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। ‘হীরামন’, ‘ময়নামতি’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’, বিনিময়, আগন্তুক -সহ জহির রায়হানের তৈরি উর্দু ছবি ‘বাহানা’ এবং ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর কবরীকে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি। এই সিনেমা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যান তিনি। পরবর্তীতে তিনি রাজ্জাক, সোহেল রানা, ফারুক, উজ্জ্বল, জাফর ইকবালের মত অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

 

‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘পরিচয়’, ‘অধিকার’, ‘বেঈমান’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘সোনালী আকাশ’, ‘দীপ নেভে নাই’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমাতে অভিনয় করেছেন কবরী। ২০০৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আয়না’ মুক্তি পায়। ইদানীং তিনি দ্বিতীয় সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’নির্মাণ করছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

কবরী প্রথম বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সেখানে বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ সন্তানের জননী।

রোজী আফসারী: রোজী আফসারী অভিনয় জীবনে ৪ দশক ধরে ৩৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনো দাপুটে নায়িকা, কখনো বা প্রতিনিধি, কখনো মা, বড় ভাবী,সংসারের বড় বৌ, এক বিধবা, মহিয়সী নারী চরিত্র,বাদশাহ মহলের নির্বাসিত বেগম কিংবা পরম শ্রদ্ধেয় বড় বোনের চরিত্রে। এমন নানা চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছিলেন রোজী। তবে তিনি জনপ্রিয়তা পান নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ ছবিতে অভিনয় করে

 

পাকিস্তানের ‘জাগো হুয়া সাবেরা’, ‘পুনম কি রাত’সহ ২৫টি উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন রোজী। তার সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সূর্য গ্রহণ’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। এছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ওরা ১১ জন’, ‘লাঠিয়াল’, ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘অশিক্ষিত’, ‘প্রতিকার’ ইত্যাদি। তার সর্বশেষ অভিনীত ছবি ‘পরম প্রিয়’ ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। মৃত্যুকালে প্রখ্যাত অভিনেত্রী রোজি আফসারী স্বামী মালেক আফসারী এবং এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

চার দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে দ্যুতি ছড়ানো এ অভিনেত্রী ১৯৮৫ সালে বিয়ে করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারীকে। বয়সে মালেক আফসারী তার ২০ বছরের ছোট হলেও দীর্ঘ ২২ বছর সংসার করেন তারা।

 

আরও পড়ুন