বাংলাদেশের যুগ্ম-সচিবরাও ভিআইপি

পশ্চিমাদেশ সুইডেনে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি পান। বাকি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেন কিন্তু বাংলাদেশে থানা কর্মকর্তরাও দেড় কোটি টাকার গাড়ি ব্যবহার করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী সাইয়া ইসলাম এ কথা লিখেছেন। তিনি বলেন, দেশে কি হচ্ছে? কার কাছে কে বিচার চাইবে? সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তিতাস ঘোষের মৃত্যু নিয়ে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। অথচ ভিআইপি যাবে বলে ফেরি তিন ঘন্টা বন্ধা রাখা হয়, এতে করে আহত তিতাস ঘোষের মস্তিস্কে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এ নিয়ে সারা দেশে বইছে ক্ষোভ। এ বিষয়ে ডয়চেভেলে’র বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি তারা, জগণের মালিক নয় সেবক।

আর একজন মন্তব্য করেছেন, ১৩৭ কোটি জনসংখ্যার দেশ গণচীন অথচ সেখানে ভিআইপি’র সংখ্যা ৪৩৫ জন! অথচ আমাদের দেশে যুগ্ম-সচিবরা পর্যন্ত ভিআইপি। তিতাসের মৃত্যুর জন্য এই ভিআইপিরাই দায়ী।

এদিকে অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার ফেইস বুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, ‘রাস্তা ছাড়েন, ফ্ল্যাগ নামান। রাস্তা কি আপনার? নাকি আপনার বাপ-দাদার? রাস্তা কেন বন্ধ থাকবে আপনার জন্য? ফেরি-রেল-বিমান কি আপনার টাকায় কেনা? কেন থেমে থাকবে এসব আপনার অপেক্ষায়? কেন লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন কষ্ট পাবে আপনার আরামের জন্য? মানুষের করের টাকায় বেতন পান তাদের সেবা করার জন্য। আপনার গাড়িতে কেন থাকবে ফ্ল্যাগ? কেন বাজবে মানুষকে থামানোর যাওয়ার হুইসেল, দেখানো হবে পুলিশের লাল ডান্ডা। কোন অধিকারে? প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী আর অ্যাম্বুলেন্সের মানুষ ছাড়া কারও চলার সময়ে এক মিনিটও রাস্তা বন্ধ থাকতে পারবে না। মন্ত্রিপর্যায়ের নিচে কারও গাড়িতে ফ্ল্যাগ থাকতে পারবে না। এসব দাবি তুলতে হবে আমাদের।

আরও পড়ুন