বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ টহল বৃহস্পতিবার শুরু

বঙ্গোপসাগরে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের সমুদ্রসীমার নির্ধারিত এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ও টহল বিমানের (মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট) অংশগ্রহণে শুরু হচ্ছে যৌথ টহল।

বৃহস্পতিবার এই টহল শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর ভারতের বিশাখাপত্তমে পৌঁছে শেষ হবে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যৌথ এই টহলে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ ও ‘আলী হায়দার’ বুধবার খুলনার মংলা নৌজেটি ত্যাগ করে। নৌজেটি ত্যাগের প্রাক্কালে নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত বাদকদল বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনের মাধ্যমে তাদের বিদায় জানায়। এ সময় কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়া রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্টসহ স্থানীয় নৌকর্মকর্তা, নাবিক এবং জাহাজে গমনকারী কর্মকর্তা ও নাবিকদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

যৌথ এ টহলে নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ ও এমপিএ অংশগ্রহণ করবে। যাত্রাপথে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। নৌবাহিনী যুদ্ধজাহাজ দু’টি বিশাখাপত্তমে পৌঁছে যৌথ টহল সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে।

সমুদ্র এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার, জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিরসনের লক্ষ্যে এ যৌথ টহল পরিচালিত হবে।

দু’দেশের এই যৌথ টহল বঙ্গোপসাগরে নিজ নিজ জলসীমায় সমুদ্রবিষয়ক অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, তথ্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজসমূহ চিহ্নিতকরণ ও বিভিন্ন অপরাধ নিরসনকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা রক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলা ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে।

যৌথ এ টহল শেষে যুদ্ধজাহাজ দু’টি আগামী ১৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন