বিএনপি-জামায়াত সুযোগ পাইলে আমারে মাইরা ফেলব’

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয় আসলেই জজ মিয়ার প্রসঙ্গ চলে আসে। কারণ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়েই মিথ্যা গল্প সাঝানো হয়। এ মিথ্যা গল্পে নিজের জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হারান জজ মিয়া।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এরপর এ হামলায় জড়িত হোতাদের আড়াল করতে আষাঢ়ে গল্পের ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল নিরীহ এ তরুণকে। রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সাজানো গল্পে জজ মিয়াকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিলেন সিআইডির তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ সাঝানো ঘটনা ফাঁস হয় ২০০১৬ সালে। ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলা মামলার রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথা ফাঁস করে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকেই তার পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছে সিআইডি।

এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলা তদন্তের নতুন করে উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্ত শেষে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ২২ জনকে আসামি করা এ সময় আসামির তালিকা থেকে জজ মিয়ার নাম বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। পরে আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। এরপর ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া।

মুক্তি পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই আশ্বাস পড়ে আছে খাতা-কলমেই। আজও অবসান হয়নি জজ মিয়ার নিদারুণ কষ্টের জীবন।

জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে জজ মিয়া এখন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করছেন। যা আয় হয় তা দিয়েই কোনোরকমে চলে তার সংসার। গ্রামে থাকা মায়ের খরচও দিতে হয় তাঁকে।

দেশের একটি গণমাধ্যমকে জজ মিয়া বলেন, গ্রেনেড হামলায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবাই কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছেন। আমি হামলায় আহত হইনি। কিন্তু ওই ঘটনায় আমিও বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জীবন বিপন্ন করে সত্য উদ্‌ঘাটনে সাক্ষ্য দিয়েছি। এখনো ভয়ে-আতঙ্কে কাটাই প্রতিদিন। অথচ সরকার থেকে পাইনি কোনো সহায়তা।

তিনি আরও বলেন, আমি দোষী না হয়েও প্রায় পাঁচ বছর জেল খেটেছি। আর সিআইডিতে রিমান্ডে থাকাবস্থায় আমারে যে নির্যাতন করা হয়েছে, তার ব্যথা এখনো টের পাই। আমি সব সময় বিএনপি-জামায়াতরে ভয় পাই। এই বুঝি আমার ওপর তারা হামলা করে। ভয়ে আমি কোনো ফেসবুক আইডিও খুলি নাই। তারা সুযোগ পাইলে তো আমারে ছাইড়া দিবো না। আমারে মাইরা ফেলব।

আরও পড়ুন