বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু, ভয়ে আছেন অনেকে

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আসন্ন ২১ তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মাঝে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাচ্ছে যে দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় ক্ষেপন হলেও পিছুপা হবে না দলের হাইকমান্ড। এই ধারণা দলের মাঝে পৌছে দেওয়ার জন্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী, তাদের মদদদাতা এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ভবিষ্যতে কপাল পুড়তে পারে অনেক ডাকসাইটের নেতারও। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ১৫০ জনকে কারণ দার্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তিন সপ্তাহের মাঝে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে দেশের বিভিন্নস্থানে বন্যা, ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রভাব এবং সবশেষ শোকের মাস আগস্টে মাসব্যাপী কর্মসূচী থাকায় প্রায় তিন মাস সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিল ক্ষমতাসীন দলে। তবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই বৈঠকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর, জাতীয় কাউন্সিল এবং উপজেলা নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ ব্যাপারে শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও মদদদাতা দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে শোকজ করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী ছিল, তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ছিল। শনিবার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত কিভাবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেটা আলোচনা করেছি। আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গকারীদের ১৫০ জনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহীদের সাংগঠনিক এ্যাকশনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেয়াম সদস্য শ্রী পীযূষ কান্তি ভাট্টাচার্য বলেছেন, দল করলে অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা মানতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি যত বড় নেতাই হন না কেন? আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে কখনও অবমূল্যায়ন করেনি। যথাযথ সময়ে সকলকেই মূল্যায়িত করেন তিনি। কেউ একটু আগে অথবা একটু পরে। তাই বলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন? আমি মনে করি, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো যথার্থ হয়েছে। নয়তো এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবন রয়েছে। এবার যদি শাস্তির আওতায় আনা যায়, তবে ভবিষ্যতে দলে কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাহস করবে না।

আরও পড়ুন