বিশ্বাস করেন ভাই, আমি এভাবে কারও সঙ্গে আচরণ করি না’

বর্তমান ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে চ্যানেল আই আয়োজিত রিয়েলিটি শো কে হবে মাসুদ রানা?’ এর অডিশন সবার আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে প্রতিযোগীদের প্রতি বিচারকদের ব্যবহার সবার চোখে সমালোচিত।

আনোয়ার হোসেনের লেখা বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ নিয়ে সিনেমা নির্মাণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু মাসুদ রানা কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা। ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজ (আইএমডিবি)-এর পক্ষ থেকে জানা যায়, মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয় করবেন এ বি এম সুমন। ছবির জন্য অডিশনও দিয়েছেন তিনি।

যদি তাই-ই হয়, তবে চ্যানেল আই আয়োজিত রিয়েলিটি শোকে হবে মাসুদ রানা?তবে এই আলোচনা ছাপিয়ে সমালোচনার তীরগুলো বিঁধছে বিচরকদের। দর্শকদের অভিযোগ, বিচারকের দায়িত্বে থাকা পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, শাফায়েত মনসুর রানা, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল, অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ও শবনম ফারিয়া প্রতিনিয়ত ‘অপমান’ করছেন প্রতিযোগীদের। এতসব সমালোচনা মাথায় একটি দৈনিকের সাথে বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেন শোয়ের বিতর্কিত বিচারকদের একজন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি।

প্রতিযোগীদের অপমান করার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহমি বলেন, “মাসুদ রানা শো তো চলছেই। আমি শুরুর দিকে জাজ ছিলাম। ভক্তদের মতামত থাকতেই পারে। এতে কোনো অসুবিধা নাই। আর এটা স্ক্রিপটেড ছিল। আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, যেভাবে গাইড লাইন দিয়েছে সেভাবেই করেছি। এই শোটা তো আমার নিজস্ব কোনো ইউটিউবের শো না। এতে চ্যানেল আই ছিল, ক্রিয়েটিভ ডিপার্টমেন্ট ছিল। আমাদের তো কিছু না”।
নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইফতেখার আহমেদ ফাহমি বলেন, “বিশ্বাস করেন ভাই, আমি এভাবে কারও সঙ্গে আচরণ করি না। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে তো দূরে থাক, কাছের মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করি না। কাছের লোক বলতে শুধু আম্মার সঙ্গে এমন করি। আর কারও সাথে করি না। মা এত কাছের, আবার একটু পরে মন খারাপ হয়ে যায়, হায় হায়! কেন এমন করলাম। সে তো একেবারে সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে”।

বিষয়টিকে ‘পাবলিক স্ট্যান্ট’ বা শোয়ের ক্যাম্পেইন বলা যাবে কি না, জানতে চাইলে ফাহমি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন কি না জানি না। আমার আব্বা দেখেও বলেছেন, আহারে এমন করেছ, মানুষতো এখন ক্ষেপে যাবে। কারণ, সবাই তো তোমার পুরো ভিডিও দেখে নাই। ভিডিও কেটে কেটে যেভাবে করা হয়েছে, তাতে তো যে কোনো দর্শকের মন খারাপ হবেই। তাদের মন খারাপটা খুবই জায়েজ। তারা তো ইন্টারনাল বিষয়টা জানে না। ভেতরে কী হচ্ছে, ওই টাইমে কী হচ্ছিল কেউ তো জানে না।’

প্রতিযোগীদের সঙ্গে এ ব্যবহারগুলো করার জন্য স্ক্রিপ্ট ব্যবহার হয়েছে জানিয়েছেন ফাহমি। বলেন, ‘এটা আসলে ক্রিয়েটিভ ডিপার্টমেন্টের কাজ। তারা আমাদের ব্রিফ করেছে। আয়োজক কমিটি ছিল, চ্যানেল আইয়ের লোকজন ছিল, একজন ডিরেক্টর ছিল, তো তিনজনকে একজন একজন করে আমাদের রুমে বসানো হয়েছিল। তো আমাদের ব্রিফ যেভাবে করেছে, ওকে ফাইন আমরা করেছি। কখনো হয় নাই (খারাপ আচরণ), কেটেছে, আবার টেক নিয়েছে। তখন যারা এসেছে তারা স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদের সঙ্গে কো-অপারেট করেছে। অডিশন দিয়েছে। হাসি তামাশা করেছে। “হাই-হ্যালো-বাই” দিয়েছে। সবাই বলেছে, ভাই দোয়া রাখবেন। এমন কথাও হয়েছে। তবে যা ভিডিওতে এসেছে, তা দেখে সবারই মন খারাপ হবে।’

প্রসঙ্গত, কে হবে মাসুদ রানা, শো’র আরেক বিচারক শবনম ফারিয়ার মোবাইল নম্বর ভাইরাল হয়েছে। এ কারণে জিডি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ফেসবুকেও একটি পোস্ট করেন এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন