বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে মৃত মুসলমানরা শাহাদাতের মর্যাদা পাবেন

ছোট লঞ্চ মর্নিং বার্ড। অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে নিরাপদেই ঢাকার সদরঘাটে এসে পৌঁছে। গন্তব্যস্থল শ্যামবাজার কাঠপট্টি ঘাট থেকে লঞ্চটির দূরত্ব আর মাত্র ২০০ হাত। লঞ্চের যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তীরে ভেড়া হলো না। পেছনের দিকে আসতে থাকা দৈত্যাকার ময়ূর-২ লঞ্চ ছোট মর্নিং বার্ডকে সজোরে ধাক্কা দেয়। তাতেই কাত হয়ে ডুবতে থাকে লঞ্চটি। মহাবিপদের আঁচ করতে পারা যাত্রীদের তখন গগনবিদারী আর্তনাদ। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকারে প্রকম্পিত হয় বুড়িগঙ্গার দুই তীর। সে চিৎকার বেশিক্ষণের নয়। মুহূর্তে ডুবন্ত ছোট লঞ্চটির ওপর পুরো দেহ উঠিয়ে দেয় ময়ূর। তলিয়ে যায় যাত্রীভর্তি আস্ত লঞ্চটি।

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে এই লঞ্চডুবির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেছেন, শরীয়তের পরিভাষায় এ দুর্ঘটনায় নিহত মুসলমানরা শাহাদাতের মর্যাদা পাবেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসনও জনপ্রতিনিধিদের দুর্ঘটনায় শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। বুধবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়াসহ সাধ্যমতো ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসতে হেফাজত নেতাকর্মীদের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যুর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শরীয়তের পরিভাষায় নিহত মুসলমানরা শাহাদাতের মর্যাদা পাবে। আমি নিহতদের মাগফিরাত কামনা করছি ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, নৌ পরিবহনের চালক ও দায়িত্বশীলদের অবহেলায় কিছুদিন পর পর লঞ্চডুবি ও নৌকাডুবির দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে দেশের নৌপথ যাতায়াত ব্যবস্থা জনগণের আস্থা হারাচ্ছে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে লঞ্চডুবির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নৌ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবী জানান হেফাজত মহাসচিব ।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবী জানান হেফাজত মহাসচিব।

 

আরও পড়ুন