বেসিক ব্যাংকের সম্মাননা ক্রেস্ট নিলেন না অর্থমন্ত্রী

রাজধানীর মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ হতে দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্ট নেননি অর্থমন্ত্রী। এ সময় তার দেখাদেখি অন্য অতিথিরাও ক্রেস্ট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। ক্রেস্ট না নেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন ক্রেস্ট নেব না। এক বছরে যদি বেসিক ব্যাংক ভালো করতে পারে তাহলে ক্রেস্ট নেব। আপনারা ভালো করেন আগামীতে আপনাদের সঙ্গে আমরা পিকনিক করব।’

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় বেশি বেতন নেওয়া, কাজ না করা ও ঋণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া, ব্যাংকটির কাছে সব ঋণ খেলাপির ঠিকানা চেয়েছেন তিনি।

একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান (বেসিক ব্যাংক) এভাবে ধ্বংস হতে পারে না। এ ব্যাংক টিকে থাকবে না বন্ধ হয়ে যাবে, এটা কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করছে। তবে, আমরা সবসময় এটাকে সরকারি বা জনগণের ব্যাংক হিসেবে নার্সিং করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব, বলেন অর্থমন্ত্রী।

লোকসানী শাখা বন্ধ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকটিকে লাভজনক করতে হবে। আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সেজন্য যে সব শাখা টানা তিন বছর ধরে লোকসান দেবে সেগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুনব না; জানতেও চাইবো না। সেসব শাখা এখন আর লাভ করতে পারছে না। ওইসব শাখাগুলোর মধ্যে যেগুলো গত দুই বছর এবং বর্তমান বছরে লাভ দেখাতে ব্যর্থ হবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যারা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন তারা এই বছর সতর্ক হয়ে যান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটিতে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অডিটের মাধ্যমে সব বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মাজিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক।

আরও পড়ুন