ভারত সরকারের মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীর

মুক্তির জন্য ভারত সরকারের দেয়া শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সব শর্ত মানতে রাজি হননি মেহবুবা এবং ওমর, এ কারণে তাদের বন্দিদশার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে।

কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগের দিন গত ৪ আগস্ট ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে ভারতীয় বাহিনী। পরদিন তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শ্রীনগরের বাসা থেকে স্থানীয় সরকারী গেস্ট হাউসে রাখা হয়।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক মুক্তির প্রস্তাব নিয়ে মেহবুবা এবং ওমরের সঙ্গে নিজে দেখা করেছিলেন। বন্দিদশা থেকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এর জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্তারোপ করা হয়।

মুক্তির প্রস্তাবে সাবেক এ দুই মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয়, বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেলে সমর্থকদের নিয়ে কোনোরকম সমাবেশ করা যাবে না। ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে কোনো প্রকার মিটিং-মিছিল ডাকা যাবে না। তবে এই শর্ত মানতে রাজি হননি মেহবুবা এবং ওমর। এরপরই তাদের আরও বেশ কিছুদিন বন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

এ নিয়ে যদিও দিল্লির তরফে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে মেহবুবা এবং ওমরের কাছে এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সত্যপাল মালিক।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে, না আটক করে রাখা হবে, রাজ্যপাল সেই সিদ্ধান্ত নেয় না। আমি কোনও প্রস্তাব দিইনি।’

গত ৫ আগস্ট গ্রেফতারের পর মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে প্রথমে শ্রীনগরের হরি নিবাস প্যালেসে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধলে, পৃথক গেস্ট হাউসে সরিয়ে নেয়া হয় তাদের।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ দুই মুখ্যমন্ত্রীকে সবধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাই পাহারায় থাকা পুলিশদের কাছ থেকেই উপত্যকা সম্পর্কে তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ওমর আবদুল্লার পিতা ফারুক আবদুল্লাকেও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

দিল্লির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত এ নেতাদের কবে মুক্তি দেয়া হবে, পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় প্রশাসনই তা ঠিক করবে।

আরও পড়ুন