মাদক মামলায় না.গঞ্জের সাবেক ওসি কামরুল কারাগারে

৪৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম কারাগারে। গত ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন কামরুল ইসলাম। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন। তিনি জানান, গত ২২ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সদর থানার সাবেক ওসি কামরুল ইসলাম বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) মো. মাহবুবুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ইয়াবা মামলায় কামরুল ইসলাম কারাগারেই আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলম সরোয়ার্দী রুবেলকে বন্দর থানার রূপালী আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ৪৯ হাজার ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মাসুদ রানা। পরদিন বন্দর থানায় চারজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। এই মামলায় পুলিশ কনস্টেবল আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে সরোয়ার্দী ও আসাদুজ্জামানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের নাম উঠে আসে। জবানবন্দিতে এএসআই রুবেল ও কনস্টেবল আসাদুজ্জামান বলেন, ওসি কামরুল ইসলামের নির্দেশেই টাকা ও ইয়াবা রেখে আসামিদের ছেড়ে দিয়েছেন তারা।

গত বছরের ৪ মার্চ উচ্চ আদালতের নির্দেশে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় ওসি কামরুল ইসলামকে। কিন্তু মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিটে) ওসি কামরুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয় সিআইডি। ফলে প্রত্যাহারের এক মাসের মাথায় ২ এপ্রিল আবারও একই পদে বহাল করা হয় তাকে। এরপর তিন মাস ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তাকে বদলি করে জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি)।

তবে বর্তমানে তিনি নারায়ণঞ্জ জেলা পুলিশে নেই বলে জানান জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-১) ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্যত্র পোস্টিং পেয়েছিলেন। বর্তমানে কোথায় আছেন জানি না। তবে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে নেই।’

এদিকে দুই পুলিশ সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তৎকালীন ওসি কামরুল ইসলামের নাম আসার পরেও অভিযোগপত্রে তাকে আসামি না করায় গত বছরের ২৯ আগস্ট এক আদেশে মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আজাদ। এবার অভিযোগপত্রে ওসি কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

নাজিম উদ্দিন আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘দেড় মাস পূর্বে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এই চার্জশিটে ওসি কামরুল ইসলামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন