মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর রাষ্ট্রীয় ভাতা নিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিক উল্যার স্ত্রী রহিমা বেগমের রাষ্ট্রীয় ভাতা নিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে। রফিক উল্যাহর স্ত্রী, বৃদ্ধা ও নি:সন্তান রহিমা খাতুন জনৈক ছকিনা বেগমকে এ প্রতারণার মূলহোঁতা দাবি করে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বরাবরে বিচার চেয়ে মঙ্গলবার নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন।

এ সময় রহিমা বেগম বলেন, তার স্বামী ১৯৭১ সালে এ দেশের হয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, তাদের বিবাহিত জীবনে কোন পুত্র-কন্যা না হওয়ায় তাদের একমাত্র পালকপুত্র কাজী মোসলেহ উদ্দিন মানিককে বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিক উল্যা জীবদ্দশায় নিজের পুত্র হিসেবে মনোনীত করেন। এ সময় বীরমুক্তিযোদ্ধা তার মৃত্যূর পর ভাতাসহ রাষ্ট্রীয় সব ধরনের সুযোগ- সুবিধাভোগের অংশীদার হিসেবে প্রত্যয়ণ করেন তাকে।

রহিমা বেগম জানান, তার স্বামী ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করার পর একমাত্র পালকপুত্র মানিকই সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন বিষয়ে রহিমার পক্ষে কর্মকান্ড সম্পাদন করতেন। একপর্যায়ে, রহিমার পালকপুত্র মানিক বিদেশে কর্মরত থাকাবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা রফিক উল্যার নামীয় ভাতা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অবসরকালীন পেনশন ভাতা জনৈক ছকিনা বেগম ওঠিয়ে নিচ্ছেন।

রহিমা জানান তিনি জানতে পারেন, শুধু জনতা ব্যাংক চৌমুহনী শাখায় হিসাব নং-১৫১৩৬ হতেই রহিমার নামের স্বাক্ষর জাল করে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬শত চুয়াল্লিশ টাকা ওঠিয়ে নেন ছকিনা বেগম । রহিমা বেগম আরো অভিযোগ করেন, তিনি পরবর্তীতে ঘটনাটি জানতে পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবরে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে আবেদন করার পর বর্তমানে ওই পেনশন ভাতা বন্ধ রয়েছে।

রহিমা অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ডাটা বেইজের ফরমে রহিমার নাম ও ছবি পরিবর্তন করেই সোনালী ব্যাংক চৌমুহনী শাখার হিসাব নং-২৩৬০৫ হতে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪শত ৪৪ টাকা ওঠিয়ে নেয় ছকিনা। রহিমা আরো বলেন, ছকিনার সংঘটিত প্রতারণা বিষয়ে জানার পর তিনি সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী, সচিব, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, বেগমগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। রহিমা অভিযুক্ত বিষয়ে ছকিনা বেগম ও আবুল হোসেন বাঙ্গালীকে দায়ি করে আইনগত বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পরেও এর কোন সদুত্তর দেননি তারা। যে কারণে অসহায় রহিমা নিরুপায় হয়ে জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৫৮৩/২০১৮ পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলার সিআইডিকে প্রয়োজনীয় তদন্তক্রমে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন।

সিআইডি উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টির যথাযথ তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে প্রতিবেদন দায়ের করেছেন। যা আদালতে বিচারাধীন বলে জানান রহিমার আইনজীবি আবদুল মান্নান ভুইয়া। এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্রে ছকিনা বেগম কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহির নাগরিক হওয়ার পরেও একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ হতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশপত্র হাসিলের অভিযোগ খোদ একলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিল উল্যাহর বিরুদ্ধে। তবে চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। রহিমা বেগম একইসঙ্গে একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদানকৃত নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ বাতিলের জন্যে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন