মেহেবুবা-ওমরদের দ্রুত মুক্তির দাবি মমতার

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওমর আব্দুল্লাহকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল প্রসঙ্গে তিনি আজ (মঙ্গলবার) সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কে মন্তব্য করেন।

মমতা বলেন, ‘ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিদের বিষয়ে আমার কাছে কোনো খবর নেই। সরকারের কাছে আমার আবেদন, ওরা যেন নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন না ভাবেন। ওরা কেউ সন্ত্রাসী নন। গণতন্ত্রের স্বার্থেই ওঁদের মুক্তি দেয়া উচিত।’

কাশ্মিরে গত (রোববার) রাতে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির বাড়িতে সর্বদলীয় বৈঠকের পরেই গৃহবন্দি করা হয় দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ উপত্যকার বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের। সংসদে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে ওমর আব্দুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিসহ অনেককেই গ্রেফতার করে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

৩৭০ ধারা বিলোপ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ওই প্রস্তাবের পক্ষে আমরা ভোট দিতে পারি না। সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং কাশ্মিরবাসীর সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। আপনারা (কেন্দ্রীয় সরকার) যদি স্থায়ী কোনো সমাধানসূত্রে পৌঁছতে চান, তাহলে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা উচিত।’

এদিকে, আজ সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ফারুক আব্দুল্লাহকে আটক অথবা গ্রেফতার করা হয়নি।

৩৭০ ধারা বাতিল করে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেন, ‘সংবিধানকে লঙ্ঘন করে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কারাগারে পুরে ও জম্মু-কাশ্মিরকে দ্বিখণ্ডিত করে জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করা যায় না। শুধুই কিছু জমির খণ্ড দেশটাকে গড়ে তোলেনি, দেশটাকে গড়ে তুলেছেন দেশের নাগরিকরাই। প্রশাসনিক ক্ষমতার এই অপব্যবহার দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক।’ এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম পার্স টুডে।

৩৭০ ধারা ইস্যুতে আজ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আহ্বানে দলীয় এমপিদের এক বৈঠকে সরকারের পদক্ষেপের বিরোধিতার কথা বলা হয়। ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে জম্মু-কাশ্মিরের মানুষ ও সেখানকার বিধানসভার সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে এনিয়ে বিরোধিতার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন