যমুনার পানি বিপদ সীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জে বেড়েই চলছে যমুনা নদীর পানি। এতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বানভাসি পানিবন্দি মানুষের দুর্গতি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম সোমবার (২৯ জুন) সকালে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২৪ ঘন্টায় ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৬ ন্টেমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে যমুনা নদীর বৃদ্ধি পায় ২৯ সেন্টিমিটার এবং তা সকালে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার
উপয় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে যমুনা নদী অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর উপজেলা, বেলকুচি উপজেলা চৌহালী উপজেলা ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দরিদ্র অসহায় মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা সহায় সম্বল, গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

অনেকে ঘরের খাট-চৌকি দিয়ে মাচাং বানিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জ্বালানি,
শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে বানভাসি পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিবুল হক জানান, বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হেক্টর
জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাট, তিল, কাউন, আখ, মরিচ, বোরো আমন, আউশ ও সবজি।

কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান জানান, রতনকান্দি হাটখোলা থেকে শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেলে আশপাশ এলাকায় পানি ঢুকে ডুবে পড়েছে দেড় শতাধিক বাড়িঘরে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দুই হাজার মানুষ।

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদ হাসান জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন
বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের পূর্বদিক দিয়ে নদীর পানি উঁপচে পড়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটখোলা-কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দৈঘ্যরে পাকা সড়কটি ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া শুভগাছা ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পানিবন্দি মানুষদের তালিকা করে তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

 

আরও পড়ুন