যে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

পুরনো কর্মসূচি নিয়েই নতুন করে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে উপজেলা সম্মেলন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, উপজেলা নির্বাচনে নৌকা বিরোধীদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা কার্যকর এবং সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার। গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নৌকাবিরোধী বিদ্রোহী প্রার্থীদের নামে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা নৌকাবিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে। ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণ করতে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর সারা দেশে সাংগঠনিক সফরে বের হবে দলটির নেতারা।

দলীয় সূত্রমতে, তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে আট বিভাগের জন্য আটটি পৃথক টিম করা হয়েছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই। টিমের সদস্যরা বেশ কিছু জেলায় সফরও করেছিলেন। মাঝখানে উপজেলা নির্বাচন, ডেঙ্গু ও গুজব সন্ত্রাসসহ আগস্ট মাস শোকের কর্মসূচি থাকায় চলমান সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ভাটা পড়ে। একইভাবে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি। উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা নৌকাবিরোধী ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় গত এপ্রিল মাসে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। জুন ও জুলাই মাসে একাধিকবার হতে উদ্যোগ নিয়েও কার্যকর করা যায়নি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, যাচাই-বাছাই করতেই সময় নেওয়া হয়েছে। গতকালের বৈঠকে সি’দ্ধান্ত হয় আবার জেলা সফরে নামবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা সংগঠনকে ঢে’লে সাজাতে নতুন জেলা-উপজেলা সম্মেলন করবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কো’ন্দল নিরসন করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেবে। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করা হবে। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের পর দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে বের হব। এতে উপজেলা সম্মেলনসহ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করব। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, দলের পদ-পদবিতে থেকে নির্বাচন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করব। এ জন্য আগামী ৮ তারিখ থেকে চিঠি পাঠানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে তাদেরও কারণ দর্শানো নোটিস দিব। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ২০০ নেতা হারাচ্ছেন তাদের দলীয় পদ-পদবি। একই সঙ্গে যেসব এমপি-মন্ত্রী ও নেতা বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করেছেন তাদেরকেও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হচ্ছে। সন্তোষ’জনক জবাব না পাওয়া গেলে ব্য’বস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানান, চলতি বছরের শুরুতেই যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, সেসব কর্মসূচি নিয়েই নতুন করে মাঠে নামার সিদ্ধা’ন্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন